ভারতীয় ভিসার আবেদন শুরু, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও চালু হয়েছে ভারতের পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা। রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)-এ আবেদন…
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে থুনবার্গকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই কিশোরী মেয়েটি মিডিয়ার নাটক ছাড়া আর কিছুই না।”
এই মন্তব্যের পরই থুনবার্গ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
গ্রেটা তাঁর পোস্টে লিখেছেন,“ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমার অভিনয় দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। আমি তো ভাবছিলাম, আপনার মতো পরিবেশবান্ধব নেতা এটা কখনো বলবেন না।”
পোস্টটির শেষে তিনি একটি পুরোনো ছবি যুক্ত করেন, যেখানে ২০১৯ সালে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে তিনি ট্রাম্পের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। ছবির ক্যাপশন দেন, “নাটকটা এখনো চলছে।”
পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি লাখ লাখ লাইক ও শেয়ার পায়। অনেকেই থুনবার্গের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়াকে “চমৎকার প্রত্যুত্তর” বলে প্রশংসা করেছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“গ্রেটা থুনবার্গ এক ধরনের মিডিয়া প্রজেক্ট। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সে যা বলে, তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত। আমি তাকে অভিনন্দন জানাই, কারণ সে জানে কীভাবে সংবাদ শিরোনামে থাকতে হয়।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট আবারও জলবায়ু সংকটকে হালকাভাবে নিচ্ছেন এবং তরুণদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছেন।
থুনবার্গের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের পর বিশ্বজুড়ে পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা একের পর এক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গ্রিন পার্টির সদস্য সোফি ইন’ট ভেল্ড বলেন, “গ্রেটা একাই যা করছেন, তা অনেক দেশের সরকারও করতে পারে না—তিনি তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করছেন।”
জার্মান জলবায়ু সংগঠন “ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার”-এর পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে বলা হয়, “গ্রেটা শুধু ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দেননি, বরং তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে ব্যঙ্গও হতে পারে প্রতিবাদের অস্ত্র।”
এটি প্রথম নয়, যখন থুনবার্গ ও ট্রাম্পের মধ্যে কথার লড়াই হয়েছে।
২০১৯ সালে জাতিসংঘে থুনবার্গের বিখ্যাত বক্তব্য “How dare you?” এর পর ট্রাম্প টুইট করে লিখেছিলেন,
“এই মেয়েটি খুবই খুশি মনে লাগছে, তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।”
পাল্টা জবাবে থুনবার্গ নিজের টুইটার বায়োতে সেই কথাই কপি করে লিখেছিলেন — যা তৎকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আলোচিত ঘটনা হয়ে ওঠে।
২০ বছর বয়সী গ্রেটা থুনবার্গ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিশ্বব্যাপী প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তিনি ২০১৮ সালে স্কুল ধর্মঘটের মাধ্যমে “ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার” আন্দোলন শুরু করেন, যা এখন বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি তিনি গাজা যুদ্ধ নিয়ে শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যে বিশ্বে যুদ্ধ চলে, সেখানে জলবায়ু ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।”
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে থুনবার্গের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি নতুন প্রজন্মের কণ্ঠস্বরের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, থুনবার্গ যেভাবে প্রতিটি আক্রমণকে প্রতিবাদের রূপ দেন, তাতে বোঝা যায়—জলবায়ু আন্দোলন এখন কেবল বিজ্ঞান নয়, রাজনীতির মঞ্চেও তার প্রভাব বিস্তার করছে।
সূত্র : পলিটিকো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au