ভারতীয় ভিসার আবেদন শুরু, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও চালু হয়েছে ভারতের পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা। রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)-এ আবেদন…
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- চুরি হওয়া এক আইফোনের সূত্র ধরেই লন্ডনে বিশাল একটি আন্তর্জাতিক মোবাইল ফোন পাচারকারী চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ মেট্রোপলিটন পুলিশ। অভিযানে ৪০ হাজারেরও বেশি চোরাই মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, নথি ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ দমন ইউনিট।
লন্ডনের পূর্বাঞ্চলীয় হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার এক তরুণীর আইফোন কয়েক সপ্তাহ আগে চুরি হয়। আইক্লাউড ট্র্যাকিং সিস্টেমে ফোনটির অবস্থান দেখা যায় উত্তর লন্ডনের একটি গুদামে। পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে বেরিয়ে আসে বিশাল পাচারচক্রের হদিস।
সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় হাজার হাজার স্মার্টফোন—যার মধ্যে অ্যাপল, স্যামসাং, শাওমি, হুয়াওয়ে, ওয়ানপ্লাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ফোনগুলো যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস থেকে চুরি করে পূর্ব ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছিল।
জব্দ করা ৪০,০০০ মোবাইলের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা)।পাচারচক্রের মূল হোতারা পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নাগরিক।
ব্রিটিশ গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, চক্রটি “স্টেলথ ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক” ব্যবহার করে ফোনগুলো বিমানবন্দর ও কার্গো কন্টেইনারের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাত।পাচার করা ফোনের বেশিরভাগই ব্ল্যাকমার্কেটে পুনরায় বিক্রি হতো—কখনো কখনো সেগুলো ক্লোন করে নতুন আইএমইআই নাম্বার দিয়ে বিক্রি করা হতো।
মেট্রোপলিটন পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছিল এক তরুণীর অভিযোগ থেকে। তাঁর হারানো আইফোনের ট্র্যাকিং লগ ও ক্লাউড ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফোনটি একাধিকবার বিভিন্ন গুদামে স্থানান্তরিত হয়েছে। এরপর পুলিশ আন্ডারকভার টিম মোতায়েন করে এবং কয়েক সপ্তাহের নজরদারির পর তিনটি স্থানে একযোগে অভিযান চালায়।
অভিযানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে ৯ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে দুজন বড় ধরনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সদস্য, যারা মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় চোরাই ফোন পাঠানোর সমন্বয় করত।
লন্ডন পুলিশের সংগঠিত অপরাধ ইউনিটের প্রধান ইনস্পেক্টর রবার্ট উইলসন এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি কেবল ফোন চুরির মামলা নয়—এটি একটি বৈশ্বিক অপরাধচক্র, যারা চোরাই প্রযুক্তিপণ্যকে বৈধ বাজারে ঢোকানোর চেষ্টা করছিল। মাত্র এক ফোনের সূত্রে এত বড় নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হওয়া আমাদের জন্য এক বিরল সাফল্য।”
তিনি আরও বলেন, পাচারচক্রটির কার্যক্রম গত তিন বছর ধরে চলছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ফোনগুলোর বেশিরভাগই গ্রাহকদের আইক্লাউড বা গুগল লক থাকা সত্ত্বেও ‘ফ্ল্যাশড’ করে পুনরায় বিক্রি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ আদালত ইতোমধ্যেই ১৭ জনের মধ্যে ৮ জনকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— চুরি করা সম্পত্তি সংরক্ষণ ও বিক্রির ষড়যন্ত্র,মানি লন্ডারিং,এবং অবৈধ পণ্য বিদেশে পাচার।
বাকি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে উদ্ধার করা ফোনগুলো তাদের মালিকদের কাছে ফেরত দিতে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ইন্টারপোল এবং ইউরোপোল এই তদন্তে সহযোগিতা করছে। চক্রটির সম্ভাব্য সংযোগ সংযুক্ত আরব আমিরাত, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একজন নাগরিকের হারানো আইফোনই শেষ পর্যন্ত উন্মোচন করেছে একটি বহুজাতিক প্রযুক্তি পাচারচক্রের কার্যকলাপ। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় চোরাই মোবাইল উদ্ধার অভিযান এবং এর মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে চলা অবৈধ ইলেকট্রনিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au