লোডশেডিং মোকাবেলায় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, জনদুর্ভোগে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা…
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- মাদাগাস্কারে টানা ১২ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা। বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়া রাজধানী আন্তানানারিভো ও আশপাশের অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সোমবার রাতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। সরকার বলছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার পদত্যাগ দাবি করছে। রাজধানীর স্বাধীনতা স্কয়ার, সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা এবং প্রেসিডেন্ট ভবনের আশপাশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজোয়েলিনার সরকার ‘দুর্নীতি, খাদ্যসংকট ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’ পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কায় তারা আগাম ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি তুলেছে।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জন নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গত সপ্তাহে পুলিশ নির্বিচারে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়েছে।
রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ায় সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জেনারেল রিচার্ড রাভেলোনরিভো–কে নিয়োগ দিয়েছেন।
তিনি এর আগে সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং রাজোয়েলিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—“জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তি পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। নতুন প্রধানমন্ত্রী এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
বিক্ষোভকারীদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘রাজনৈতিক নয়, বরং সামরিক দমননীতি প্রয়োগের পদক্ষেপ।’
বিরোধী দল ন্যাশনাল রেসকিউ অ্যালায়েন্স (এনআরএ) অভিযোগ করেছে, সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করছে।
দলের মুখপাত্র এলিনোর রাকোতোফি বলেছেন, “এটি জনগণের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ মানে হলো—সরকার সংলাপ নয়, শক্তির পথে হাঁটছে।”
বিরোধীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মাদাগাস্কারের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
আফ্রিকান ইউনিয়নও প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যেন নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে।
ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মাদাগাস্কারের সঙ্গে উন্নয়ন সহায়তা স্থগিত করার হুমকি দিয়েছে, যদি রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত থাকে।
রাজধানী আন্তানানারিভোতে ব্যাংক, সরকারি অফিস ও স্কুলগুলো গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে।
দেশটির মুদ্রা আরিয়ারি গত ১০ দিনে ডলারের বিপরীতে ১২ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দামও দ্রুত বাড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে মাদাগাস্কার ২০২৫ সালের নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্য থেকে কমপক্ষে ২ বছর পিছিয়ে পড়বে।
১২ দিন ধরে উত্তাল মাদাগাস্কার এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার নতুন সামরিকপন্থী সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ—রাজনৈতিক আস্থা পুনরুদ্ধার ও সহিংসতা বন্ধ করা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় না গেলে এই পরিবর্তন কেবলমাত্র বিক্ষোভ দমন নয়, বরং আরও বড় রাজনৈতিক সঙ্কটের সূচনা করতে পারে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au