শিগগিরই ৪.৫ প্রজন্মের জেট বিমানের তৃতীয় ব্যবহারকারী দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। ছবিঃ ডিফেন্স নিউজ
মেলবোর্ন, ৮ অক্টোবর- চীন ও পাকিস্তান বর্তমানে চীনা নির্মিত জে–১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। তবে শিগগিরই এই ৪.৫ প্রজন্মের জেট বিমানের তৃতীয় ব্যবহারকারী দেশ হতে পারে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান গত মাসে জানিয়েছেন, দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার “বহুমুখী যুদ্ধ ও আক্রমণাত্মক বিমান” কেনার পাশাপাশি নতুন সারফেস–টু–এয়ার মিসাইল ও দীর্ঘ পাল্লার রাডার কেনার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী (বিএএফ) ঠিক কোন মডেলের বিমান কিনবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি হবে চীনের জে–১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান।
এই ইঙ্গিত এর আগেই পাওয়া গিয়েছিল, যখন এ বছরের মার্চে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ২০২৭ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০টি জে–১০সিই জেট কিনতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান। সেই কমিটিই চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা ও দর–দাম নির্ধারণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিমানগুলোর মূল মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ পরিশোধ করা হবে আগামী ১০ বছরে, অর্থাৎ ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
ভারত ও আংশিকভাবে মিয়ানমার দ্বারা পরিবেষ্টিত বাংলাদেশকে তার সীমিত আকাশসীমা এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় সক্ষম থাকতে হবে।
বিমানবাহিনীর জন্য নতুন যুদ্ধবিমান কেনা এখন জরুরি, কারণ বিএএফের বর্তমান বহরে রয়েছে মূলত পুরোনো, চীনা নির্মিত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এফ–৭ (F-7) বিমান এবং রুশ তৈরি মিগ–২৯ (MiG-29)। এ বছরের জুলাইয়ে একটি এফ–৭ বিমান ঢাকার একটি কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়।
চীনা জে–১০ ছাড়াও বিএএফ পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের দিকেও নজর দিয়েছে। মে মাসে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা ইতালিতে ইউরোফাইটার টাইফুন (Eurofighter Typhoon) বিমানের প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
তবে শেষ পর্যন্ত চীনা বিকল্পই এগিয়ে থাকতে পারে, কারণ বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সামরিক সরঞ্জামের নিয়মিত ব্যবহারকারী। সাম্প্রতিক কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে টাইপ–১৫ হালকা ট্যাংক ও টাইপ–০৩৫জি সাবমেরিন।
যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি আছে, তবুও “ফোর্সেস গোল ২০৩০” আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অধীনে যদি এই জে–১০সিই কেনা সম্পন্ন হয়, তাহলে ভারতীয় সীমান্তের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব তিন দিকেই জে–১০ যুদ্ধবিমান দেখা যাবে।
বাংলাদেশের এই আগ্রহ নতুন নয়। চলতি বছরের মে মাসে ভারত–পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধে পাকিস্তানের জে–১০সিই বিমানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনার পর থেকেই বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত চায়না এরোস্পেস স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ব্রেন্ডান মুলভানি বলেছেন, “জে–১০সি একটি আধুনিক ও যথেষ্ট সক্ষম বিমান—চীন যে যুদ্ধবিমান রপ্তানি করে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে উন্নত।”
তিনি আরও বলেন, “ভারত–পাকিস্তান সংঘাত প্রমাণ করেছে, চীনা তৈরি সরঞ্জাম, এমনকি রপ্তানিযোগ্য সংস্করণও আধুনিক ও কার্যকর। ভবিষ্যতে চীনের সীমানার বাইরেও এগুলো বড় ভূমিকা রাখবে।”
সব মিলিয়ে, অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিকালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, ডেটা লিংক এবং PL-15E মতো দীর্ঘ পাল্লার মিসাইলসহ জে–১০সিই বিমান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতায় এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সুত্রঃ ডিফেন্স নিউজ