অস্ট্রেলিয়ার যুব ফুটবলে নজর কাড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দেবোপম ধর
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- আধুনিক ফুটবলে রাইট উইংব্যাক ও ফুলব্যাক পজিশনকে সবচেয়ে পরিশ্রমসাধ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণে গতি…
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পর এই সফরের আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৩ থেকে ২৬ জুন চীনে চার দিনের সরকারি সফরে যাওয়ার আগে তিনি দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাবেন, যেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয়া সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ছাড়াও বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে দেশটির বৃহত্তম বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এমএমসি পোর্টসের চেয়ারম্যান, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি এবং বিনিয়োগ খাতের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ জুন চীনে পৌঁছাবেন। পরদিন চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বর্জে ব্রেন্ডের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। একই দিনে দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় জলবায়ু নেতৃত্ব’ শীর্ষক একটি অধিবেশনেও অংশ নেবেন তিনি।
সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ১৭তম বার্ষিক সভায় যোগ দেবেন। বিশ্বজুড়ে উদীয়মান অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে এই ফোরামে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সফরের শেষ দিনে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বাংলাদেশ সবুজ জ্বালানি উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদন খাতে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বেইজিংয়ে একটি বৃহৎ বিনিয়োগ সম্মেলনের প্রস্তুতিও চলছে।
সফরে বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, যমুনা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণ এবং চীনা ঋণ সহায়তায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন টাকার অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গুরুত্ব পেতে পারে।
এছাড়া চীনা মুদ্রায় বন্ড ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর, মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু এবং বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর করেছিলেন। প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। গত বছর চীনের উদ্যোগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিন দেশই ওই বৈঠককে ‘অনানুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
চীনের কুনমিং শহরে নবম চীন-দক্ষিণ এশিয়া প্রদর্শনী এবং ষষ্ঠ চীন-দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলোর অগ্রগতি তদারকির জন্য একটি কার্যকরী গ্রুপ গঠনের বিষয়েও নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মূল গুরুত্ব দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদারে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au