সর্বশেষ

তেল আবিবে শোক–শ্রদ্ধায় হামাসের হামলার বর্ষপূর্তি পালন, জিম্মি মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

  • 2:08 pm - October 08, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৬৮ বার
এ আয়োজনে জড়ো হওয়া ইসরায়েলিরা গাজায় থাকা অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্ত করে আনার দাবি জানান।ছবি: রয়টার্স

মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- গাজায় ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধের সূচনা ঘটানো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে শোক, শ্রদ্ধা ও প্রতিবাদের নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি ইসরায়েলে স্মরণ করা হয় ‘ব্ল্যাক স্যাটারডে’ হিসেবে—যে দিনে হামাসের আকস্মিক হামলায় প্রাণ হারান এক হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজায়।

গতকাল রবিবার রাজধানী তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়ে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন এবং জাতীয় পতাকা নামিয়ে অর্ধনমিত রাখেন। অনুষ্ঠানস্থলে নিহতদের ছবি, ফুল এবং শিশুদের অঙ্কিত শান্তির প্রতীক প্রদর্শন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন নিহতদের পরিবার, জিম্মি পরিবারগুলোর সদস্য, সামাজিক কর্মী, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষ।

অনুষ্ঠানে শোকের আবহের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভও প্রকাশ পায়। বক্তারা গাজায় এখনো আটক থাকা জিম্মিদের মুক্তির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নিহতদের স্বজনেরা আবেগঘন ভাষণে বলেন, “এক বছর পেরিয়ে গেল, তবু আমাদের প্রিয়জনেরা ফিরলেন না। আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না।”

তেল আবিব ছাড়াও জেরুজালেম, হাইফা, বিয়ারশেবা ও আশকেলনসহ বিভিন্ন শহরেও স্মরণসভা, মিছিল ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। হাইফায় আয়োজিত এক সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন, “বেঁচে থাকো, ফিরিয়ে আনো আমাদের মানুষদের”।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বার্তায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “৭ অক্টোবর আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত হয়ে থাকবে। আমরা এই ক্ষতি ভুলব না, আর জিম্মিদের মুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী, এবং আমাদের শত্রুরা যেন জানে—আমরা পিছু হটব না।”

অন্যদিকে, নিহতদের পরিবারের একটি অংশ সরকারের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। তাঁদের অভিযোগ, যুদ্ধের পরও জিম্মিদের মুক্তি ও নিহতদের ন্যায়বিচারের বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেকে বলেন, “আমরা প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চাই। আমরা আমাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনতে চাই।”

অনুষ্ঠানে শান্তির পক্ষে নানা প্রতীকী কর্মসূচিও দেখা যায়। শিশু ও তরুণদের একটি দল সাদা বেলুন উড়িয়ে শান্তি ও মুক্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি গাজা ও ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও উচ্চারিত হয় অনেকের কণ্ঠে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বর্ষপূর্তি ইসরায়েলি সমাজে এক গভীর মানসিক ক্ষতের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে। হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা কয়েক দশক ধরে চলা সংঘাতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

এক বছর পরও গাজায় যুদ্ধ থামেনি, জিম্মিরা এখনো বন্দী, আর ইসরায়েলি জনগণের মনে রয়ে গেছে ভয়, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার ছায়া। তবু তেল আবিবের মোমবাতির আলোয় সেই রাতে একটাই বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—“শান্তি ও মানবতার পথেই মুক্তির আলো।”

সুত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক

রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…

শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…

বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?

আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।…

ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড…

বেদখল হচ্ছে ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা, ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের কেউ কেউ নিজেদের বসতি সম্প্রসারণের জন্য শ্মশানের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au