শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ৯ অক্টোবর- জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, গণভোটও সুষ্ঠু হবে না। তাই আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়াই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করে জামায়াত।
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, “গণভোটের বিষয়ে এখন সবাই একমত। নভেম্বরের মধ্যেই এটি আলাদাভাবে সম্পন্ন হওয়া দরকার। কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা থাকলেও গণভোট নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। জুলাই চার্টারের যে সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, সেটি গণভোটের মাধ্যমেই গৃহীত বা বাতিল হবে।”
তিনি বলেন, অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হয়। কিন্তু জামায়াতের অবস্থান ভিন্ন। “গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন—দুটি আলাদা বিষয় এবং দুটোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট হবে জুলাই সনদ বা চার্টারের ওপর, যেটিকে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ হিসেবে বিবেচনা করি। জনগণ যদি গণভোটে সেটি গ্রহণ করে, তাহলে সেই রায়ের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে। আর জনগণ যদি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সেটি এখানেই শেষ হবে,” বলেন ডা. তাহের।
তার ভাষায়, “নির্বাচনের আগেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। কারণ, তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হবে—জনগণ সংস্কারগুলো গ্রহণ করেছে কিনা। যদি উভয় ভোট একসাথে হয়, তাহলে একটার ভাগ্য অন্যটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে কোনো একটি বিতর্কিত হলে অন্যটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।”
তিনি বলেন, “জুলাই চার্টারে এমন কিছু বিষয় আছে যা পরবর্তী নির্বাচনের আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠবে, যেমন আপার হাউস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব। যদি গণভোটে আপার হাউসের অনুমোদন আসে, তাহলে সেটি আগামী নির্বাচনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু গণভোট ও নির্বাচন একই দিনে হলে বিষয়টি অনির্ধারিত থেকে যাবে।”
ডা. তাহের মনে করেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই এই আশঙ্কা। “আগেও দেখা গেছে, গণভোটের রায় স্থগিত হয়েছে বা কার্যকর হয়নি। তাই আমরা চাই না দুটি প্রক্রিয়া একসাথে চালু করা হোক। এতে করে গণভোটের চার্টারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি ভবিষ্যতের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তবে সাম্প্রতিক দুটি ছোট নির্বাচনেও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের রাতে ধাক্কাধাক্কি, মিছিল ও অভিযোগের কারণে আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। জাহাঙ্গীরনগরের নির্বাচনের রায় দিতে ৪৮ ঘণ্টা লেগেছে—এগুলোও ভাবনার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই নভেম্বরের শেষের দিকেই গণভোট হোক। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯ দিন ব্যবধানেও গণভোট হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানেও হয়েছে। তাই এবারও তা সম্ভব। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার আগে নভেম্বরের মধ্যেই জুলাই চার্টার নিয়ে গণভোট হওয়া উচিত।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au