বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লে (Sussan Ley). ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ অক্টোবর: অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিতে লিবারেল পার্টিতে আবারও ফাঁস নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লে (Sussan Ley) অস্বীকার করেছেন যে তিনি অ্যান্ড্রু হেস্টির (Andrew Hastie) সম্পর্কে তার পূর্বসূরির মন্তব্য গণমাধ্যমে ফাঁস করেছেন।
লিবারেল দলের সাংসদ জুলিয়ান লিসার (Julian Leeser) দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা পরস্পর সম্পর্কে মন্তব্য বন্ধ করে এবং বিরোধী দলের দায়িত্বে মনোযোগ দেন।
তিনি এবিসি রেডিও ন্যাশনাল ব্রেকফাস্টে বলেন,
“দলকে কিছু সময় আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে, তবে সেই সময় খুব দীর্ঘ হতে পারে না। জনগণ চায় আমরা বর্তমান ইস্যুগুলোতে মনোযোগ দিই।”
লিসার আরও বলেন, দলীয় ফাঁস দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে “আমাদের উচিত জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী কর্মসূচি তৈরি করা।”
শিশু নির্যাতন অপরাধে বাধ্যতামূলক সাজা দাবি
শ্যাডো অ্যাটর্নি জেনারেল জুলিয়ান লিসার শিশু নির্যাতন ও যৌন শোষণ সংক্রান্ত অপরাধে বাধ্যতামূলক কারাদণ্ডের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড (Michelle Rowland)-এর কাছে এক চিঠিতে এই প্রস্তাবের সমর্থন চান। রোল্যান্ড বলেন, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে “উন্মুক্ত”।
যদিও আইনজীবী মহলে বাধ্যতামূলক সাজা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, লিসার বলেন—
“শিশু যৌন নির্যাতন এমন এক জঘন্য অপরাধ যেখানে সমাজের মানদণ্ড প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। আগের অভিজ্ঞতা বলছে, বাধ্যতামূলক সাজা কার্যকর হয়েছে অভিযুক্তরা স্বীকারোক্তি দিচ্ছে, পুনর্বাসনে যাচ্ছে এবং রাস্তায় অপরাধ কমছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের কোনো অভিভাবকই কঠোর শাস্তির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে দ্বিমত করবেন না।”
শিল্প খাতে আরও সহায়তার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মন্ত্রী
শিল্পমন্ত্রী টিম আয়রেস (Tim Ayres) ভারী শিল্প ও স্মেল্টার কারখানাগুলির জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, “আমরা অতীতে হস্তক্ষেপ করেছি এবং এখনো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সতর্ক ও শৃঙ্খলিতভাবে কাজ করছি।”
আদাস ইসরায়েল সিনাগগ মামলায় নতুন তথ্য
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের নতুন কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট (Krissy Barrett) সেনেটে জানিয়েছেন, মেলবোর্নে আদাস ইসরায়েল সিনাগগে অগ্নিসংযোগ ঘটনার ‘ব্যক্তি বিশেষ তালিকাভুক্ত’ একজন সন্দেহভাজন অবৈধ তামাক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, “এই বিদেশে অবস্থানকারী অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ তামাক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ ও অপরাধী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
আগে অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, ইরানি সরকার অন্তত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার পেছনে ছিল যার জেরে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
সূত্র: এবিসি নিউজ, ক্যানবেরা