শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন জানিয়েছে, গতকাল থেকে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ২০৯,১০০ টাকা প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম), যা রেকর্ড হিসেবে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামও $৪,০০০ প্রতি আউন্স (২৮.৩৪৯৫ গ্রাম) ছাড়িয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক উত্থানের প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে।
১. বৈশ্বিক স্বর্ণের উত্থান
মূল্যবান ধাতুর বৈশ্বিক দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে মার্কিন সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় পরিমাণে ক্রয়। রিয়াটার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল স্পট স্বর্ণ $৪,০৩৭.৯৫ (৪৯১,০০০ টাকা) স্থিতিশীল ছিল, যা এই উত্থানের শক্তি প্রমাণ করে।
বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ এবং স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
২. বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ
অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি, এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ইসরায়েল-গাজা সংঘর্ষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছেন।
এই বছরের এপ্রিল মাসে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন স্বর্ণের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। আগস্টে এটি পুনরায় বৃদ্ধি পায়, যখন ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার সমালোচনা করেন, আল জাজীরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়
২০২২ সাল থেকে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতি বছর ১,০০০ টন এর বেশি স্বর্ণ ক্রয় করছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৪৮১ টন ছিল। গত বছর পোল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত, আজারবাইজান এবং চীন অন্যতম প্রধান ক্রেতা ছিল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়েছে।
৪. টাকার মূল্যহ্রাস স্থানীয় খরচ বাড়াচ্ছে
বাংলাদেশে স্বর্ণের সরাসরি আমদানি বেশি না হলেও, দেশীয় দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আন্তর্জাতিক দামের বৃদ্ধির পাশাপাশি টাকার অবমূল্যায়ন স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়েছে। ২০২১ অর্থবছর থেকে টাকার মান ডলারের বিপরীতে ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
প্রধানত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যাগেজ নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ আমদানি করেন। টাকার অবমূল্যায়নের ফলে আমদানির খরচ বেড়ে গেলে, তা স্থানীয় বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
৫. চাহিদা সরবরাহের তুলনায় বেশি
বাংলাদেশের বার্ষিক স্বর্ণের চাহিদা প্রায় ২০-৪০ টন, যার ৮০ শতাংশই অ-সরকারি মাধ্যমে পূরণ হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৪৫.৬ টন স্বর্ণ দেশে প্রবেশ করলেও, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম এবং উৎসবের সময় গ্রাহকের চাহিদা এখনও পূর্ণ হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, আমদানির একটি বড় অংশ ভারত পাচারে চলে যাচ্ছে। এই চাহিদা-সরবরাহের অসামঞ্জস্য দেশের বাজারকে সংকীর্ণ রাখছে এবং দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
সুত্রঃ ডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au