সর্বশেষ

হেফাজতে ১৫ সেনা কর্মকর্তা, আত্মগোপনে সাবেক সামরিক সচিব কবীর আহাম্মদ

  • 6:01 am - October 12, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯১ বার
সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। ঢাকা সেনানিবাসের মেস আলফা। ১১ অক্টোবর। ছবি: প্রথম আলো

মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জন এখনো সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন এবং তারা বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। আরও একজন কর্মকর্তা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (এলপিআর) আছেন। তবে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এখনো আত্মগোপনে আছেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস এ-তে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা এখনো সেনা সদর পর্যন্ত পৌঁছায়নি। তবে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সেনা সদর থেকে একটি সংযুক্তির আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে চাকরিতে থাকা ১৫ কর্মকর্তা ও এলপিআর ভোগরত ১ জনকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনা হেফাজতে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেনা সদর জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৫ কর্মকর্তা হেফাজতে এসেছেন। তবে মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ আসেননি। তাঁর পরিবারের বরাতে জানানো হয়, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হন এবং তারপর থেকে আর ফিরে আসেননি। তাঁর অবস্থান এখনো অজানা।

মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, কবীর আহাম্মদকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘ইলিগ্যাল এবসেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান চলছে এবং পরিবারটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি যাতে অবৈধভাবে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য ডিজিএফআই, এনএসআই, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্ব্যর্থহীনভাবে বিচারের পক্ষে। ন্যায়বিচারের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমরা বিশ্বাস করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। গুমের শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সেনাবাহিনী গভীর সমবেদনা জানায়।”

আইনের প্রতি সেনাবাহিনীর অবস্থান
সেনাবাহিনী সংবিধান স্বীকৃত সকল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে জানান মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সেনা আইন একে অপরের বিরোধী নয়, বরং দুটি আলাদা আইনি কাঠামো।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত হলে তাঁর চাকরিতে থাকা অবৈধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাকিমুজ্জামান বলেন, সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইনে যে ‘ডিসকোয়ালিফিকেশন’-এর কথা বলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রয়োগবিধি এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেওয়া হবে, এবং সেনাবাহিনীতে এর প্রযোজ্যতা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরোয়ানার পটভূমি
গত বুধবার ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। দুটি মামলা গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ঘটেছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আরেকটি মামলা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে। এসব মামলায় মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জন সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা।

পরোয়ানা পাওয়া কর্মকর্তাদের হস্তান্তর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেনা সদর জানায়, অভিযুক্তদের একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে এবং পরিবার থেকে আলাদা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

অভিযুক্তদের দায়িত্বকাল ও সংস্থাগত সম্পর্ক
সেনাবাহিনী জানায়, অভিযোগপত্রে উল্লেখিত সময়কালে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা কেউই সেনাবাহিনীর সরাসরি কমান্ডে ছিলেন না। তাঁরা তখন প্রেষণে র‍্যাব বা ডিজিএফআইয়ের মতো সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।

মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, র‍্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়, আর ডিজিএফআই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে। তাই ওই সময় অভিযুক্তদের কার্যক্রম সেনা সদরের আওতার বাইরে ছিল, এবং তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সেনাবাহিনীর কোনো সরাসরি তদারকি বা জ্ঞান ছিল না।

তদন্তে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গুম-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে গঠিত জাতীয় কমিশনকে সেনাবাহিনী শুরু থেকেই সহযোগিতা করে আসছে। কমিশনের অনুরোধে প্রাসঙ্গিক নথি সরবরাহ করা হয়েছে, সাক্ষাৎকারের জন্য সদস্যদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে, এবং অভিযোগপত্র দাখিলের পরও নথি প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

সেনা সদর জানায়, কমিশনের প্রতিবেদন ও প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযোগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়; এটি কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা
আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “আগস্ট থেকে আমরা টানা মোতায়েন আছি। ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং এবার সেনাবাহিনীর ভূমিকা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য বর্তমান মোতায়েন তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

হাকিমুজ্জামান বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হবে। দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি স্থিতিশীল ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব। অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করাকে আমরা আমাদের অন্যতম প্রধান জাতীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করি।”

সুত্রঃ প্রথম আলো

এই শাখার আরও খবর

শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক

রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…

শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…

বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?

আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।…

ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড…

বেদখল হচ্ছে ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা, ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের কেউ কেউ নিজেদের বসতি সম্প্রসারণের জন্য শ্মশানের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au