বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর টহল দল। ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে অস্বাভাবিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশী সোশ্যাল মিডিয়া একটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাভার্য জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের কিছু অস্বাভাবিক চলাফেরা লক্ষ্য করা গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামরিক ক্যু-র সম্ভাবনার গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার(১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টার পর থেকে এই গুঞ্জন শুরু হয়। অন্যদিকে, এই গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়েছেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকার নাঈন সায়ের।
তবে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ২৫ কর্মকর্তা মধ্যে ১৫ জন এখনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এছাড়া একজন এলপিআর (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) ভোগ করছেন। এই ১৬ কর্মকর্তার মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি সবাই বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন। কবীর আহাম্মদ এখন আত্মগোপনে রয়েছেন।
শনিবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস-এ এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এখনো সেনার হাতে পৌঁছায়নি। তবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি সেনা সদরের নজরে আসার পর ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সংযুক্তির আদেশ জারি করা হয়। এর মাধ্যমে চাকরিরত ১৫ জন এবং এলপিআর ভোগরত ১ জন—মোট ১৬ কর্মকর্তাকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনা হেফাজতে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, এলপিআর ভোগরত কর্মকর্তা সহ ১৫ জন নির্ধারিত সময়ে সেনা হেফাজতে আসেন। তবে সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ আসেননি। তার পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি ৯ অক্টোবর সকালে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বাসা থেকে বের হন এবং এরপর আর ফিরে আসেননি। তার সঙ্গে যোগাযোগ এখনও সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই ধারণা, সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে তা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।