শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর- ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ইতালির রোম সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি মূল বক্তব্য দিয়েছেন। এ অনুষ্ঠানটি ১০ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশে ফেরার এক মাসের মধ্যেই তিনি আবার বিদেশ সফরে গেছেন। ১৪ মাসে অন্তত ১৪টি বিদেশ সফর এবং প্রতিবারই বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করায় এই ভ্রমণ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে।
সফরের উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কোনো দ্বিপাক্ষিক সফর নয়। ইতালির রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে কোনো বৈঠকের তথ্যও জানা যায়নি। ফলে সরকারি অর্থে এমন সফরের যৌক্তিকতা নিয়েই সমালোচনা হচ্ছে।
ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এই আয়োজন কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর, যুবশক্তি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে। ২০২১ সাল থেকে এটি আয়োজন করা হচ্ছে। আগের বছরগুলোতে মূলত বিভিন্ন দেশের কৃষিমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। এবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সরাসরি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলমও ফোরামের মিনিস্টেরিয়াল সেশনে অংশ নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, তিনি ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, জিবুতির প্রধানমন্ত্রী ও রোমের মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওও তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বিতর্কের সূচনা
প্রধান উপদেষ্টার এই সফর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় যখন রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে লিখে জানান, এ তথ্য ভুল। তিনি বলেন, “বাসস বা কোনো সংবাদপত্র আমার সঙ্গে কথা বলেনি। আমি শুধু বলেছিলাম, তিনি ফোরামে যোগ দেবেন এবং কিছু উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন, কিন্তু ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সূচি নেই।”
সমালোচনা ও বিশ্লেষণ
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়মিত বিদেশ সফর নিয়ে বিতর্ক চলছে। কখনো কখনো রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কহীন ইভেন্টেও তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
গত ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারই বিদেশ সফর বিষয়ে ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছিল, যেখানে উপদেষ্টা ও সচিবদের একই অনুষ্ঠানে বিদেশ ভ্রমণ পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সফরগুলোতে সেই নির্দেশনা মানা হয়নি বলে দাবি বিশ্লেষকদের।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি বিবৃতিতে করদাতাদের অর্থে বড় প্রতিনিধি দল পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “তারা কি রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য যাচ্ছেন, নাকি শুধুই আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির জন্য? তাদের ভূমিকা কী, সেটি স্পষ্ট নয়।”
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদও প্রশ্ন তুলেছেন, “এ ধরনের বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতি কতটা জরুরি? তাঁর আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, বিশেষ করে দেশে নির্বাচন আয়োজন।”
তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার উচিত রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া। বক্তৃতা দেওয়ার চেয়ে এখন সেটিই বেশি প্রয়োজন। এসব কম গুরুত্বপূর্ণ সফর তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।”
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম প্রতিনিধি দলের আকার এবার কমবে, কিন্তু উল্টো বেড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেমন দেখা গেছে, এখনো সেই ধারাবাহিকতা চলছে।”
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রোম সফরটি কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হচ্ছে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নির্বাচন আয়োজন, আর সেটিই এখন প্রধান উপদেষ্টার মূল মনোযোগ হওয়া উচিত।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au