ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব
মেলবোর্ন, ১ মে- ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে বাংলাদেশ…
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর: ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দী ভয়াবহ নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তাঁদের ভাষায়, “আমরা কারাগারে ছিলাম না—ছিলাম কসাইখানায়।” সাম্প্রতিক বন্দী বিনিময়ের পর মুক্তি পাওয়া এসব ফিলিস্তিনি জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সীমা ছিল না।
মুক্তিপ্রাপ্ত ২৪ বছর বয়সী মুহাম্মদ আল-কারিম বলেন, “আমাদের দিনে একবার খাবার দেওয়া হতো, পানি ছিল পরিমিত, এমনকি ঘুমানোর সুযোগও কেড়ে নেওয়া হতো। প্রতিদিন কেউ না কেউ মার খেত।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের চোখ বেঁধে জেরা করা হতো, অনেক সময় ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হতো—কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই।”
মুক্ত হওয়া নারী বন্দীদের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নারী বন্দীদের ওপরও “অমানবিক আচরণ” চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের সন্তানদের ছবি দেখিয়ে ভয় দেখানো হতো, কারও সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ ছিল।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দীদের এই অভিযোগগুলো “গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল” এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই বন্দীদের প্রতি আচরণে আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।”
তবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বন্দীদের সঙ্গে “মানবিক ও আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী আচরণ” করা হয়েছে।
এক মুখপাত্র বলেন, “নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তবে নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে ১৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর অভিযোগ ছাড়া আটক ছিলেন। এই মুক্তি গাজা যুদ্ধের পর শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, বন্দীদের বিবরণ নতুন করে ইসরায়েলের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au