চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৫ অক্টোবর- আজ ১৫ অক্টোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস। ১৯৮৫ সালের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ভবনের একটি হলরুমের ছাদ ধসে প্রাণ হারান ৪০ জন মানুষ। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন ছিলেন শিক্ষার্থী, বাকি ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী। আহত হয়েছিলেন আরও অনেকে। নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর এই দিনটি শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে প্রবল বর্ষণের সময়। সে রাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীজুড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছিল। বৃষ্টির পানিতে দুর্বল হয়ে পড়েছিল ভবনের পুরনো ছাদ। তখন ওই ভবনে ‘শুকতারা’ নামের একটি নাটক দেখছিলেন অনেকে। নাটক শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট পরেই ছাদ ধসে পড়ে। ধারণা করা হয়, ঘটনাস্থলে দেড় থেকে দুই শ’ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত হতে পারে।
দুর্ঘটনার রাতেই ৩৫ জন মারা যান, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী। আহত হন শতাধিক মানুষ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিদেশি কূটনীতিকরা শোক প্রকাশ করেন। তিন দিন জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ অক্টোবর সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এরপর থেকেই ১৫ অক্টোবর দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জগন্নাথ হলের আক্টোবর স্মৃতি ভবনে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবিঃ সংগৃহীত
ঘটনাস্থল যে ভবনে হয়েছিল, সেটি তখন “পরিষদ ভবন” বা “অ্যাসেম্বলি হল” নামে পরিচিত ছিল। একশ বছরেরও বেশি পুরনো এই অডিটোরিয়ামটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ ভবন। নতুন ভবন নির্মাণের পর ১৯৬৩ সালে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে জগন্নাথ হলের টেলিভিশন কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সকাল ৬টায় সব ভবন ও হলে কালো পতাকা উত্তোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোক র্যালি শুরু হয়ে জগন্নাথ হলের স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে, যেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।
সকাল ৮টায় অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে আলোচনা সভা, সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা, এবং বাদ মাগরিব কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব হল মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের প্রতিকৃতি, ছবি ও বিভিন্ন দলিল প্রদর্শন করা হবে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর শনিবার, ওয়েন্টঅর্থভিল কমিউনিটি সেন্টার, নিউ সাউথ-ওয়েলস এ জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া একটি স্মরণ সভার আয়োজন করেছে। এই স্মরণ সভায় জগন্নাথ হলের বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্ররা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নিবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি বিকেল পাঁচটা থেকে রাত দশটা অবধি চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
আজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শোক দিবসের সব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au