চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৯ অক্টোবর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস ২০২৫ উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। গত শনিবার, ১৮ অক্টোবর, সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থ ভিলে গ্রেভিলিয়া রুমে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে ওটিএন বাংলা।
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের টিভি রুমের ছাদ ধ্বসে ৪০ জন শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথির মৃত্যু হয়। বহু শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হন। এরপর থেকেই ১৫ অক্টোবরকে ঢাবি শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় ।পরে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে সকলেই এক মিনিট নীরব প্রার্থনা করেন। এরপর ভক্তিগীতি ও কোরাস পরিবেশন করা হয়, যা অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ফুটিয়ে তোলে।

প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও ব্রিজবেন থেকে অ্যালামনাই সদস্য এবং পরিবারের সদস্যরা অনলাইনের মাধ্যমে সংগীত পরিবেশন করেন। সিডনির স্থানীয় সদস্য জ্যোতি বিশ্বাস, অদিতি রাউত ও তপন শীল গান পরিবেশন করেন। এছাড়া তুষার রায়, ড. সজল রায় ও ড. লাবণ্য শিল্পী আবৃত্তি করেন।
স্মরণসভায় সূচনা বক্তৃতা দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমল জোয়াদ্দারের প্রতিনিধি সুবল চৌধুরি। তিনি জগন্নাথ হল ধ্বসের পর আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসা মানুষের সহমর্মিতা, দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট অদ্যাবধি প্রকাশ না হওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি তুলে ধরেন। ঢাবি শোক দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অ্যালামনাই সংগঠন ও অতিথি বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি কামরুল মান্নান আকাশ, বুয়েট আহসান উল্লাহ হল অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি উত্তম দত্ত, বাংলাদেশ মেডিক্যাল সোসাইটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি এবং নিহত শিক্ষার্থী নীরঞ্জন পালের ভাই মনোরঞ্জন পাল। তারা সবাই উক্ত ঘটনায় গভীর আবেগপ্রবণ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংগঠনের সদস্যবৃন্দ ও তাদের পরিবার এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানকে সম্পূর্ণতা দান করেন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
নিকেশ নাগের সভাপতিত্বে এবং কবিতা রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও নস্টালজিক হয়ে ওঠে। সংগঠনের সদস্যবৃন্দ ও তাদের পরিবার এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানকে সম্পূর্ণতা দান করেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে প্রবল বর্ষণের সময়। সে রাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীজুড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইছিল। বৃষ্টির পানিতে দুর্বল হয়ে পড়েছিল ভবনের পুরনো ছাদ। তখন ওই ভবনে ‘শুকতারা’ নামের একটি নাটক দেখছিলেন অনেকে। নাটক শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট পরেই ছাদ ধসে পড়ে। ধারণা করা হয়, ঘটনাস্থলে দেড় থেকে দুই শ’ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০ পর্যন্ত হতে পারে।
দুর্ঘটনার রাতেই ৩৫ জন মারা যান, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২৬ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারী। আহত হন শতাধিক মানুষ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিদেশি কূটনীতিকরা শোক প্রকাশ করেন। তিন দিন জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং ১৬ অক্টোবর সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এরপর থেকেই ১৫ অক্টোবর দিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au