অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ অক্টোবর- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এটি তার সপ্তাহব্যাপী বিদেশ সফরের শুরু। এ সফরে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন।
তিনি কুয়ালালামপুরে আসিয়ান (ASEAN) শীর্ষ সম্মেলন এবং পূর্ব এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেবেন। পরে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন এশিয়া-প্যাসিফিক ইকনমিক কোঅপারেশন বা এপেক (APEC) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে। যাত্রার আগে আলবানিজে বলেন, এ সফরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি মনে করেন, এই সময়টি এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এশিয়া সফরে আছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় এসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি হতে যাচ্ছে তা তিনি তদারকি করবেন। এছাড়া তিনি আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেবেন।
তারপর তিনি জাপানের রাজধানী টোকিও গিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরের শেষ ধাপে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকটি হবে এপেক সম্মেলনের বাইরে, এবং এটি গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা এখন অনেক বেশি।
ট্রাম্পের সফরের আগে তার প্রশাসন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। আসিয়ান দেশের নেতারা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে শুল্ক কমানো ও বাণিজ্য সহজ করার বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, তিনি চাইলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করতেও প্রস্তুত।
লোই ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা সুসানাহ প্যাটন বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেওয়া বিরল ঘটনা হলেও এটি এই অঞ্চলে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। তার মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, কারণ তারা চায় না শুধু চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে।
অস্ট্রেলিয়া এখন শুধু চীন বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গেও আরও গভীর ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চাইছে। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে ব্যবসায়ী নিকোলাস মুরকে দিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করায় সরকার। তিনি এবারও আলবানিজের সফরসঙ্গী হচ্ছেন, যাতে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ রস ট্যাপসেল মনে করেন, নেতৃত্ব পর্যায়ে সম্পর্ক ভালো থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে অনেক ঘাটতি আছে। তার ভাষায়, বাইরে থেকে সব কিছু ভালো দেখালেও ভেতরের সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন।
অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি চারটি চাকরির একটি সরাসরি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই সম্মেলনগুলো নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশই দীর্ঘদিন ধরে বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কাউকেই এককভাবে বেছে নিতে চায় না। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার অধিকার আছে।
অনেক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর থেকে কিছু দেশে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে, বিপরীতে চীন ও রাশিয়ার প্রতি সমর্থন বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্ব মনে করছে, যদি তারা এই অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত না থাকে, তাহলে চীন আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ