লিড নিউজ

এক্সক্লুসিভ: “আমি দোষী নই, আমি ক্ষমা চাইব না” -বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য

  • 8:53 pm - October 29, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৬৭ বার
“বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। শুধুমাত্র স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই এই দেশের ক্ষত সারাতে পারে।”- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মেলবোর্ন ২৯ অক্টোবর: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, তিনি গত বছরের সহিংস বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ক্ষমা চাইবেন না।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত এক বিরল ও বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জাতি হিসেবে হারানো প্রতিটি সন্তান, ভাই, বোন ও বন্ধুর জন্য শোক প্রকাশ করি; কিন্তু আমি সেই অভিযোগ স্বীকার করতে পারি না যে, আমি নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম।”

“আমার বিচার একটি ভুয়া নাটক” হাসিনার অভিযোগ

বাংলাদেশের প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছেন। অভিযোগ তিনি ছাত্রদের বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন, যাতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বলেন,

“এই বিচার একটি ‘ভুয়া নাটক’। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। অ-নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি আদালত আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে চায়। আমি অবাক হব না, আবার ভীতও নই।”

তিনি আরও দাবি করেন, এই আদালত “রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা পরিচালিত” এবং “বাংলাদেশের রাজনৈতিক হত্যার ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এটি আরেকটি অধ্যায়।”

“থাকলে শুধু আমার জীবনই নয়, আমার চারপাশের মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ত। আমি বাধ্য হয়েছিলাম দেশ ছাড়তে।”সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

“সহিংসতা ছিল শৃঙ্খলা ভাঙনের ফল”

হাসিনা বলেন, বিক্ষোভের সময় তার সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল একটি “সহিংস বিদ্রোহ” মোকাবিলার পদক্ষেপ।
তিনি বলেন,

“নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। নেতা হিসেবে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি, তবে এটি বলা ভুল যে আমি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম বা তা চেয়েছিলাম।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার সরকার বিক্ষোভে প্রথম দিকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই তদন্ত বন্ধ করে দেয়।

বিক্ষোভ, রক্তপাত ও পতন

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ধীরে ধীরে আন্দোলনটি সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, এবং সরকার কঠোর হাতে দমন অভিযান চালায়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সে সময় বলেছিল,

“বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদ দমন ও মতপ্রকাশের অসহিষ্ণুতার এক ভয়াবহ উদাহরণ এটি।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টার্ক ঘটনাটিকে আখ্যায়িত করেন “ছাত্রদের ওপর হামলা বিশেষভাবে নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।”

শেখ হাসিনা এই সংখ্যাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি,

“১,৪০০ মৃত্যুর সংখ্যা একটি অতিরঞ্জিত রাজনৈতিক প্রচারণা। সত্যিকারের সংখ্যা তার চেয়ে কম।”

“দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম” হাসিনার ব্যাখ্যা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। তার দাবি,

“থাকলে শুধু আমার জীবনই নয়, আমার চারপাশের মানুষের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ত। আমি বাধ্য হয়েছিলাম দেশ ছাড়তে।”

তিনি বলেন, নিজের আওয়ামী লীগ দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

“একটি অ-নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন আয়োজন করছে, যেখানে আমার দলকেই প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এটি কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক নয়।”

ইউনূস সরকারের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস হাসিনার পতনের তিন দিন পর দেশে ফিরে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ঘোষণা দেন যে, আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ।

প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনাকে আখ্যা দিয়েছেন

“ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিদ্রোহে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী ও স্থপতি।”

এর জবাবে হাসিনা বলেন,

“এই অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিকৃত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মাঠ পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলো ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, সরকারের নির্দেশ নয়।”

“আমার লক্ষ্য এখনো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা”

নির্বাসিত জীবনে থেকেও শেখ হাসিনা দাবি করেন,

“বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। শুধুমাত্র স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই এই দেশের ক্ষত সারাতে পারে।”

তিনি বলেন,

“আমি চাই ইতিহাস আমাকে স্মরণ করুক সেই নেতা হিসেবে, যিনি ১৯৯০-এর দশকে সামরিক শাসনের পর সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং লাখো মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই অর্জনগুলো হুমকির মুখে।”

সূত্র: The Independent | প্রতিবেদন: মারূষা মুজাফফর | অনুবাদ ও সম্পাদনা: OTN Bangla আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এই শাখার আরও খবর

“কিসের চুমু রে!”; একটি থাপ্পড়, একটি শিশুর কান্না এবং আমাদের সামাজিক বিবেকঃ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সত্য অস্বীকারের সমাজতত্ত্ব

“কিসের চুমু রে!” এই কয়েকটি শব্দের পরই গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষককে থাপ্পড় মারার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছেন একজন বাবা,…

ট্রানজিট করিডর নিয়ে সমঝোতা, মাতারবাড়ী বন্দরে অর্থায়নের সম্ভাবনা

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে অর্থায়ন চুক্তি সই হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ছয় লেনের…

হুথিদের হুমকির মধ্যেই রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার হুমকির মধ্যেই সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর থেকে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম…

নোয়াখালীতে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দুই স্থানে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ২

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সোনাইমুড়ী উপজেলায় ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।…

দিনাজপুরে হিন্দু শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রাস্তার বিরোধ মেটাতে গিয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক হিন্দু স্কুলশিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর)…

লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৮ দিনে আটক ১৩৮ জেলে

ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে থেমে নেই মাছ শিকার। নিষেধাজ্ঞার প্রথম ১৮ দিনে ইলিশ ধরার অভিযোগে ১৩৮ জেলেকে আটক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au