মায়ের শেষ বিদায়ে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
কারাগারে থাকা সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে…
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশি ও বিদেশি কিছু শক্তি পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নোবেল বিজয়ী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এ ঘটনাকে “গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউনূস বলেন,
“বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরেও আছে, বাইরে থেকেও আছে যারা এই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, এসব গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশবিরোধী কোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
“আমরা চাই, বাংলাদেশ যেন শান্তিপূর্ণভাবে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে পারে। কোনো বিদেশি বা দেশীয় ষড়যন্ত্রই যেন এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।”
তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে, যে কোনো অস্থিতিশীলতা বা সহিংস কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে।
ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান যেন তারা বাংলাদেশের নির্বাচনকে “বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব প্রক্রিয়া” হিসেবে সম্মান করে। তিনি বলেন,
“বিদেশি বন্ধুদের আমরা স্বাগত জানাই-তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে আসতে পারেন, সহায়তা দিতে পারেন কিন্তু কোনোভাবেই যেন এই নির্বাচনে বাহ্যিক প্রভাব বা চাপ না আসে।”
প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, প্রবাসী ভোটারদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
ইউনূস বলেন,
“আমরা চাই প্রতিটি নাগরিকের ভোট যেন গণনা হয়, প্রতিটি কণ্ঠ যেন শোনা যায়। জনগণের ভোটই এই সরকারের একমাত্র বৈধতার উৎস।”
ড. ইউনূসের বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সরকারপন্থি নেতারা বলছেন, এটি একটি বাস্তবসম্মত সতর্কবার্তা যা দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতা মনে করছেন, ইউনূসের বক্তব্যের মাধ্যমে “দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের দায় বিদেশি শক্তির ওপর চাপানো হচ্ছে।”
সাধারণ মানুষ আশা করছে, এই নির্বাচনকে ঘিরে আর কোনো সহিংসতা বা অনিশ্চয়তা তৈরি হবে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর তারা একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন নজর কেন্দ্রীভূত হয়েছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার কতটা সফলভাবে এই চাপের মধ্যেও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au