মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের ডিআইজি এহসানুল্লাহ রহস্যজনকভাবে পালিয়ে গেছেন রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমি থেকে। বিষয়টি তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা ও পুলিশের উচ্চপর্যায়।
পুলিশ ও আইসিটির তদন্ত সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, র্যাবের আলোচিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আলেপ উদ্দিনের সহযোগী হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউর রহমানকে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইসিটির প্রতিনিধিরা সিআইডি ঢাকা মেট্রো অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে হেফাজতে নেন।
এদিকে, জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় উত্তরা গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরা ডিভিশনের সাবেক সহকারী উপকমিশনার (এডিসি) সালাউদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের আরেকটি দল।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, একই মামলার অংশ হিসেবে বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার এবং বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সাপ্লাই বিভাগে দায়িত্বে থাকা ডিআইজি এহসানুল্লাহকে গ্রেপ্তারের জন্য বুধবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের সময় তিনি রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পুলিশ একাডেমির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। একাডেমির প্রিন্সিপালকে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে তদন্ত দল।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, বুধবার ভোর ৬টার দিকে আইসিটির একটি প্রতিনিধিদল জেলা পুলিশের সহায়তায় সারদা একাডেমিতে পৌঁছে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা দলটির পরিচয় যাচাই ও প্রবেশে বিলম্ব করে। এ সময় ঘটনাটি টের পেয়ে ডিআইজি এহসানুল্লাহ সরে যান। পরে সারাদিন রাজশাহীজুড়ে তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে নানা আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও আইসিটি উভয় সংস্থাই বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাডেমির ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করে এহসানুল্লাহর পলায়নের পেছনের ভূমিকা ও সহায়তাকারীদের শনাক্ত করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গ্রেপ্তার অভিযান চলাকালীন একজন ডিআইজির পালিয়ে যাওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”
অন্যদিকে, আইসিটির তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এই তিনজনের বিরুদ্ধে “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের” অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, এবং পলাতক ডিআইজি এহসানুল্লাহকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।