চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অপরিহার্য খনিজ উৎপাদনকারী অস্ট্রেলিয়ার দুটি খনিতে সবচেয়ে বড় অংশীদার এখন চীনা কোম্পানিগুলো। এতে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে প্রবেশাধিকার সংকট কাটিয়ে উঠছে।
চীন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে, তারা জিরকোনিয়াম নামের এক অল্প পরিচিত খনিজের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই জিরকোনিয়ামকে বলা হয় “ক্রিটিক্যাল মিনারেল” বা কৌশলগতভাবে জরুরি খনিজ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিরকোনিয়াম উৎপাদক, এবং চীনের মোট আমদানির ৪১ শতাংশই সরবরাহ করে এই দেশটি।
অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো শুধু চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগই অনুমোদন দেয়নি, বরং কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার একটি খনিকে উৎপাদন শুরুতে সহায়তা হিসেবে ১৬ কোটি মার্কিন ডলারের সহজ ঋণও দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে যুক্ত হয়েছে। গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
কিন্তু চীন নিজস্ব প্রয়োজনে জিরকোনিয়াম প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি তা রাশিয়ায় রপ্তানিও করছে। ফোর কর্নারস–এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় এই জিরকোনিয়াম পাঠানো হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সহায়তা করতে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ায় চীনের জিরকোনিয়াম রপ্তানি বেড়েছে ৩০০ শতাংশের বেশি। অস্ট্রেলিয়ার একটি খনির মূল কোম্পানি এই রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপদেষ্টা ও সামরিক কৌশলবিদ ডেভিড কিলকুলেন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার উচিত তার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা। তাঁর ভাষায়, “আমাদের জানতে হবে আমাদের খনিজগুলো কোথায় যাচ্ছে, বিশেষত যেগুলো পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।”
জিরকোনিয়াম: টাইলস থেকে ক্ষেপণাস্ত্রে
যদিও জিরকোনিয়ামকে কৌশলগত খনিজ বলা হয়, গত কয়েক বছর তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় তেমন জায়গা পায়নি। এটি সাধারণত বাথরুমের টাইলস ও স্যানিটারি সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে এর উচ্চতর ব্যবহার হচ্ছে ‘জিরকোনিয়াম স্পঞ্জ’, যা পারমাণবিক জ্বালানির রড মোড়ানোর কাজে লাগে।
এই রডগুলো বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াতে ইচ্ছুক দেশগুলোর জন্যও জিরকোনিয়াম অত্যাবশ্যক। এর গলনাঙ্ক ১,৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, যা অতিরিক্ত তাপ সহ্য করার কারণে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের জন্য আদর্শ করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে এমন খনিজ আমদানি হলে এর চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। চীনের বেসামরিক ও সামরিক শিল্প প্রায়ই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, তাই পারমাণবিক কর্মসূচির বেসামরিক অংশকে সামরিক থেকে আলাদা করা কঠিন
চীনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, চীনে বিশ্বের মোট জিরকোনিয়ামের ১ শতাংশেরও কম মজুত আছে। তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বিশ্বব্যাপী কৌশলগত সম্পদের প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে জিরকোনিয়ামের ব্যবহার ও বণ্টন জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।”
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খনিজ বালুর মজুত রয়েছে, যেখান থেকে জিরকোনিয়াম আহরণ করা হয়। কিন্তু এসব খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য বিদ্যমান।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ নাইন নিউজ
ইমেজ রিসোর্সেস: অস্ট্রেলিয়া থেকে চীনে শতভাগ সরবরাহ
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ‘ইমেজ রিসোর্সেস’ কোম্পানির সবচেয়ে বড় অংশীদার চীনের এলবি গ্রুপ, যাদের সঙ্গে বেইজিং সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কোম্পানিটি তাদের সব পণ্যই চীনে পাঠায়, এবং এলবি গ্রুপই এর প্রধান ক্রেতা।
কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে চীনা সরকারের ১১ পৃষ্ঠার সমর্থনের বিবরণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক মানের জিরকোনিয়াম স্পঞ্জ তৈরির জন্য অর্থায়ন। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে তারা স্বীকার করেছে, তাদের খনিজ পারমাণবিক জ্বালানি, জেট ইঞ্জিন, রকেট ও হাইপারসনিক যান তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে।
তবে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী প্যাট্রিক মুৎস এসব খনিজের সামরিক ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি শুধু বলেছেন, তাদের পণ্য “রঙ, রঞ্জক ও টাইলস তৈরির মতো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়” এবং সব রপ্তানি সরকার অনুমোদিত।
রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়ছে দ্রুত
ফোর কর্নারস–এর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন থেকে রাশিয়ায় জিরকোনিয়াম রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার। এই রপ্তানিতে অংশ নিচ্ছে ইমেজ রিসোর্সেসের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারও।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিএমপি হলো চীনা জিরকোনিয়ামের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এই প্রতিষ্ঠান পারমাণবিক জ্বালানির রডের খোলস ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের অ্যালয় তৈরি করে। গত তিন বছরে রাশিয়া ইউক্রেনে নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেমন “জিরকন”, ব্যবহার করেছে।
থান্ডারবার্ড খনি: সরকারি ঋণে চীনের অংশীদারিত্ব
চীনের জন্য আরেকটি বড় জিরকোনিয়াম উৎস পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ব্রুমের কাছে থান্ডারবার্ড খনি। ২০২০ সালে চীনের ইয়ানস্টিল কোম্পানি এই খনির ৫০ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করে, যা ফরেন ইনভেস্টমেন্ট রিভিউ বোর্ড অনুমোদন দেয়।
২০২২ সালে খনিটিকে উৎপাদনে আনতে অস্ট্রেলিয়া সরকার উত্তর অস্ট্রেলিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফ্যাসিলিটির (NAIF) মাধ্যমে ১৬ কোটি মার্কিন ডলারের সহজ ঋণ দেয়। যদিও তখন খনিজটির প্রতিরক্ষা প্রয়োগ নিয়ে কিছু বলা হয়নি, কেবল বলা হয়েছিল এর ব্যবহার নির্মাণ, উন্নত উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাড়বে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানিয়েছেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই, কারণ “অস্ট্রেলিয়া রপ্তানি বন্ধ করলেও বিশ্বে অন্য উৎস থেকে জিরকোনিয়াম পাওয়া সম্ভব।”
তিনি বলেন, “চীন যেমন আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, তেমনি সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণও। বাস্তবতা এটাই।”
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au