‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর: অস্ট্রেলিয়ানদের একাংশ বলছেন তারা এখন আর মেলবোর্ন কাপ নিয়ে আগের মতো আগ্রহী নন, প্রাণী অধিকার কর্মীদের প্রতিবাদও অব্যাহত রয়েছে। তবুও এই ঘোড়দৌড়ে বাজি ধরার প্রবণতা তেমন কমেনি। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মেলবোর্ন কাপে বাজি ধরার মোট অর্থের অঙ্কে খুব সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে।
রেসিং ভিক্টোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মেলবোর্ন কাপে বাজির পরিমাণ ছিল ২২১ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে সামান্য কমে দাঁড়ায় ২১৪ মিলিয়ন ডলারে। গত পাঁচ বছরের গড় ব্যয় প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছিই রয়েছে।
তবে সামগ্রিকভাবে অস্ট্রেলিয়ায় ঘোড়দৌড়ে বাজি ধরার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শিল্পটির দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণে চাপ
ভিক্টোরিয়া রাজ্যে গত আর্থিক বছরে ঘোড়দৌড়ে বাজি ধরার পরিমাণ কমেছে ১০.২%। তার আগের বছরও ৪% হ্রাস পেয়েছিল। ২০২২ সালে যেখানে বাজির পরিমাণ ছিল ৯.১ বিলিয়ন ডলার, সেখানে গত বছর তা নেমে আসে ৭.৯ বিলিয়ন ডলারে।
রেসিং ভিক্টোরিয়া এই পতনের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, অন্য খেলাধুলায় বাজির প্রবণতা, প্রচারণা কমে যাওয়া এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
একই প্রবণতা দেখা গেছে নিউ সাউথ ওয়েলসেও, যেখানে গত দুই বছরে বাজির রাজস্ব ৯.৬% কমেছে। রেসিং এনএসডব্লিউ ২০২৩ সালে ৩৩৫ মিলিয়ন ডলারের বাজি রাজস্ব রিপোর্ট করেছিল, যা ২০২৪ সালে নেমে আসে ৩০২ মিলিয়নে।
ঘোড়া না জানলেও বাজি ধরেন মানুষ
মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাম্বলিং গবেষক চার্লস লিভিংস্টোন বলেছেন,
“মেলবোর্ন কাপ মূলত এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে মানুষ ঘোড়া সম্পর্কে কিছু না জানলেও বাজি ধরেন।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একধরনের ‘গ্র্যান্ড ফাইনাল’ ইভেন্ট বুকমেকারদের জন্য বিশাল বিপণন সুযোগ। এই দিনে নতুন মানুষকে বাজি ধরতে উৎসাহিত করাই তাদের লক্ষ্য।”
তার মতে, অনেক তরুণ এই উপলক্ষে বাজি ধরার অ্যাপ ডাউনলোড করেন, আর পরে সেই অ্যাপ থেকেই তারা অন্যান্য খেলায় যেমন AFL, ক্রিকেট বা টেনিসে বাজিতে যুক্ত হয়ে পড়েন।
‘ফ্রি বেট’ কমলেও বুকমেকারদের মুনাফা বেড়েছে
অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় তদন্তে ‘ফ্রি বেট’ প্রচারণাকে সমালোচনা করা হয়েছিল দুই বছরেরও বেশি আগে। এরপর থেকে এসব প্রচারণা কমে গেছে। ভিক্টোরিয়ায় গত বছর জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে ‘ফ্রি বেট’-এর পরিমাণ প্রায় ১০% হ্রাস পায় ১৮৪.৬ মিলিয়ন ডলার থেকে নেমে আসে ১৬৬.৭ মিলিয়নে।
তবুও বুকমেকারদের মুনাফা বেড়েছে ১৪.২% থেকে ১৫.৪%-এ। রেসিং ভিক্টোরিয়ার প্রধান নির্বাহী অ্যারন মরিসন বলেন, “প্রধান প্রিয় ঘোড়াগুলো কম জেতায় বুকমেকারদের লাভ বেড়েছে, যা রাজস্বের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হয়েছে।”
যুবকদের টানতে নতুন উদ্যোগ
অস্ট্রেলিয়ার বড় জুয়া কোম্পানিগুলো যেমন ফ্লাটার, স্পোর্টসবেট, ল্যাডব্রোকস এবং নেডস জানিয়েছে যে বাজারে ধীরগতি অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, AFL ও NRL-এর মতো অন্যান্য খেলাধুলায় বাজির বাজারে বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
রেসিং সংস্থাগুলো তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে লাইভ মিউজিক ফেস্টিভ্যালের সঙ্গে অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক প্রচারণা তার অংশ।
গত শনিবারের ডার্বি ডে-তে রেসিং ভিক্টোরিয়া ৮৬,০০০-এরও বেশি দর্শকের উপস্থিতি জানিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫.৫% বেশি।
প্রাণী অধিকার বিতর্ক ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পরও মেলবোর্ন কাপ এখনো অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতির এক অদম্য ঐতিহ্য। আগ্রহ কিছুটা কমলেও বাজি ধরার অর্থের অঙ্ক প্রায় অপরিবর্তিত যা প্রমাণ করে, ঘোড়দৌড়ে অস্ট্রেলিয়ানদের রোমাঞ্চ এখনো শেষ হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au