ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান (ফাইটার এফ-৭) বিধ্বস্ত। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটির কারণেই গত জুলাইয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এদিন দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান, যিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
প্রেস সচিব বলেন, “গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনার পর ২৯ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আজ সেই কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার হাতে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তদন্তে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটি। প্রশিক্ষণ চলাকালীন অবস্থায় বিমানের নিয়ন্ত্রণ পাইলটের আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, যা সরাসরি দুর্ঘটনার দিকে নিয়ে যায়।
প্রেস সচিব বলেন, “তদন্ত কমিটি প্রায় ১৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে, যার মধ্যে বিশেষজ্ঞ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও ছিলেন। তারা ১৬৮টি তথ্য সংগ্রহ করে ৩৩টি সুপারিশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বহু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, প্রতিবেদনের প্রধান সুপারিশ হলো—জননিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে বিমান বাহিনীর সব প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালনা করা হবে। প্রধান উপদেষ্টাকে এই সুপারিশ জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।