‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৭ নভেম্বর-বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে নিজের হাতে নিয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মন্সুর পাঁচ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংকের বোর্ড বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ভালো প্রশাসন নিশ্চিত করা, জবাবদিহি বাড়ানো, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই পাঁচ ব্যাংককে “রেজোলিউশন প্রক্রিয়ায়” আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশের ১৫ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মансুর জানান, পাঁচটি ব্যাংককেই এখন অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকে একজন প্রশাসক এবং একটি সহায়ক টিম দায়িত্ব পালন করবে।
তাদের চারটি মূল দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন, ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখা, বড় অঙ্কের পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি নিষ্পত্তি যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে; আইটি অবকাঠামো একীভূত ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা; মানবসম্পদ পুনর্গঠন এবং একই এলাকায় অবস্থিত একাধিক শাখা যৌক্তিকভাবে একীভূত করা।
গভর্নর বলেন, “এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা দূর করা এবং টেকসই একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।”
এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক গঠন করা হবে, যা শিগগিরই চালু হবে।
প্রাথমিকভাবে এটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হলেও এটি পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের অধীনে একটি বেসরকারি ব্যাংকের মতো পরিচালিত হবে।
গভর্নর জানান, নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ। অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি শেয়ার ১০ টাকা করে ৪০০০ কোটি শেয়ার)।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটির লাইসেন্সের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে যাচাইয়ের জন্য। যাচাই শেষ হলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মансুর বলেন, ছোট আমানতকারীরা চলতি মাসের মধ্যেই তাদের টাকা ফেরত পাবেন। তিনি বলেন, “নতুন ব্যাংক যেহেতু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন, তাই আমানতকারীদের চিন্তার কিছু নেই। প্রথম দিন থেকেই বাজারভিত্তিক মুনাফার হার অনুযায়ী মুনাফা দেওয়া হবে। বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
দুই লাখ টাকার নিচে আমানতকারীরা পুরো টাকা তুলতে পারবেন। এর বেশি টাকার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে উত্তোলন প্রক্রিয়া চালু হবে, যা গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।
গভর্নর আরও বলেন, “এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭৫ লাখেরও বেশি আমানতকারীর অর্থ নিরাপদ থাকবে। এটি দেশের মানুষ, রাষ্ট্র ও আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি পরবর্তী সরকারকে আর্থিক আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।”
তিনি জানান, সাধারণত দুটি ব্যাংক একীভূত করতে দুই বছর লাগে। পাঁচটি ব্যাংক একত্র করা আরও সময়সাপেক্ষ হবে। “এটি একদিনে, একমাসে বা ছয় মাসে শেষ হবে না। ধাপে ধাপে এগোবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যৎ সরকারও এই উদ্যোগ চালিয়ে যাবে।”
গভর্নর আরও জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা নতুন ব্যাংকের কোনো শেয়ার পাবেন না, কারণ তাদের বিদ্যমান শেয়ারগুলোর সম্পদমূল্য ইতিমধ্যেই ঋণাত্মক হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিটি শেয়ারের নামমাত্র মূল্য ১০ টাকা হলেও এর প্রকৃত সম্পদমূল্য ঋণাত্মক ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকার মধ্যে। তাই এসব শেয়ারকে অকার্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au