চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
রেজাউল এইচ. লাস্কার | দ্য হিন্দুস্তান টাইমস | ৭ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের “সহিংস ও চরমপন্থী নীতি” বাংলাদেশ ও ভারতের মৌলিক সম্পর্ককে বিপন্ন করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, “ইউনুস তার সরকারে চরমপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন,” যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য হুমকি।
ভারতের নয়াদিল্লিতে আত্মনির্বাসিত অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার রাতে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস-এ পাঠানো ইমেল সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আমি ভারতের জনগণের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে একটি নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন।”
হিন্দুস্তান টাইমস কে দেওয়া তার প্রশ্নোত্তর পর্বটি ওটিএন্ বাংলার পাঠকদের জন্য বাংলায় অনুবাদ করা হলো…
উত্তর:
ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকা উচিত, যদি আমরা নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে চাই।
যদি ইউনুসের অনির্বাচিত প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের কোনো টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়ে থাকে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে সেই সরকারের বিশৃঙ্খল, সহিংস ও চরমপন্থী নীতির ফল।
এর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর শারীরিক ও আইনি আক্রমণ, পশ্চাদগামী সামাজিক ও ধর্মীয় নীতি, এমনকি ঢাকার কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি বৈরী বক্তব্য।
আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই ধরনের শত্রুতামূলক মনোভাব অধিকাংশ বাংলাদেশির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক গভীর ও বিস্তৃত, এবং আমরা গর্ব করি ভারতের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পেরে।
ব্যক্তিগতভাবে বলব, গত এক বছরে ভারতের জনগণ আমাকে যে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে, আমি তার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
উত্তর:
আমি আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছি। এগুলো একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আদালতের মামলা, যা আমার বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিকই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ভোট দেয়নি। এই সরকারের জবাবদিহি বা ন্যায়বিচারের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই।
আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণই বিশ্বাসযোগ্য নয়। যেসব অডিও রেকর্ডিং ও ট্রান্সক্রিপ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বিকৃত ও প্রেক্ষাপট-বহির্ভূতভাবে নেওয়া হয়েছে।
একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ আদালত থাকলে আমি এই মিথ্যা প্রমাণকে চ্যালেঞ্জ করতে পারতাম। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে তেমন কোনো আদালত নেই।
আমি আমার কাজের জন্য ভয় পাই না। আমি বহুবার ইউনুস প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছি যেন এই অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ICC) আনা হয়, যেখানে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচার হতে পারে। কিন্তু তারা তা করবে না, কারণ সেখানে তারা রায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
উত্তর:
যে দেশে সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয় না, সেখানে গণতন্ত্রের কোনো আশা থাকে না। এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সংবিধান ও ১৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
যদি তারা তাদের পছন্দের দলকে ভোট দিতে না পারে, তারা ভোটই দেবে না। এর ফলে বাংলাদেশ একটি প্রকৃতভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে, যা হবে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।
আমরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনগত, কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই চালিয়ে যাব, যাতে জনগণের ভোটাধিকারের অধিকার সংরক্ষিত থাকে।
আওয়ামী লীগ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নয়বার ক্ষমতায় এসেছে। দলটি কখনও অবৈধ বা অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করেনি। বিপরীতে, কেউই ইউনুসের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ভোট দেয়নি।
উত্তর:
এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায্য নয়, আত্মঘাতীও বটে। এর মানে হচ্ছে, আগামী সরকারের কোনো নির্বাচনী বৈধতা থাকবে না, কারণ কোটি কোটি ভোটার কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
আমাদের একমাত্র আশা হলো বাংলাদেশ যেন পুনরায় সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে ফিরে আসে। এর একমাত্র পথ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন।
উত্তর:
এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি একটি অনির্বাচিত সরকার কর্তৃক আমার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নীরব করার প্রচেষ্টা। নিরাপত্তা বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডকে আমার ব্যক্তিগত নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ বিকৃত ধারণা।
কিছু সদস্য ভুল করেছে, কিন্তু আমি কখনোই নিরাপত্তা বাহিনীকে জনতার ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি। আমি প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দুঃখিত। ঢাকার রাস্তাগুলো তখন আইনশৃঙ্খলাহীন হয়ে পড়েছিল, এবং আমরা প্রাণহানি কমানোর লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।
প্রথম মৃত্যুর ঘটনার পর আমরা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলাম, কিন্তু ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই সেটি বাতিল করে দেয়। এর ফলে আজও নিহতদের পরিবার ন্যায্য উত্তর থেকে বঞ্চিত।
বরং এখন ইউনুস সরকার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, যার বাস্তবতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
উত্তর:
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হওয়া উচিত একটি নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক আদালতে, যেমন আইসিসি। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, বিচারক, সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা চলছে, তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নথিভুক্ত হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ইউনুস সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ১,০০০টিরও বেশি পুলিশ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শত শত মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেকেই হেফাজতে মারা গেছেন।
এই কারণেই আমরা চাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এই পরিস্থিতির তদন্ত করুক, যেন দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।
উত্তর:
আমাদের সময়ে আমরা ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আজ যে ধর্মীয় সহিংসতা চলছে, তা বাংলাদেশের সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।
ইউনুস সরকারের প্রথম কয়েক সপ্তাহে যে ধর্মীয় সহিংসতা দেখা গেছে, তা লজ্জাজনক। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এখনো চলমান, অথচ ইউনুস সরকার তা অস্বীকার করছে।
বাংলাদেশ সবসময় নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থল ছিল, যেমন আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ সেই সহনশীলতার ঐতিহ্যই হুমকির মুখে।
ইউনুস ১৯৯০ সালে মাত্র ৬,০০০ টাকায় চাকরি শুরু করেছিলেন, অথচ এখন তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা এই সম্পদের উৎস তদন্ত হওয়া উচিত।
উত্তর:
আমাদের সময়ে আমরা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক নাগরিকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলাম। আজ ঢাকার রাস্তায় সেই নিরাপত্তা নেই।
ইউনুসের সরকারে চরমপন্থীদের পৃষ্ঠপোষকতা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে দুর্বল করছে। এটি উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর।
উত্তর:
হ্যাঁ, বাংলাদেশের একসময়ের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এখন থমকে গেছে। আইএমএফ গত এক বছরে একাধিকবার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।
আমরা দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে এনেছিলাম, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান খাতে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছিলাম।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ছিল আমাদের সেই সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ। আজ ইউনুস সরকারের স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন নীতি ও বিদেশনীতি পুনর্গঠনের কারণে সেই অগ্রগতি বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
দিল্লিতে আত্মনির্বাসিত শেখ হাসিনা এই সাক্ষাৎকারে একদিকে ভারতের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে সতর্ক করেছেন যে ইউনুস সরকারের চরমপন্থী নীতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au