শহর দখলের পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং পরে মৃতদেহ সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- সুদানের উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশারে ভয়াবহ গণহত্যা চালানোর পর শহরটি থেকে পালানোর প্রধান পথ বন্ধ করে দিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। শহর দখলের পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং পরে মৃতদেহ সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাব (ইয়েল এইচআরএল)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে সহিংসভাবে শহরটি দখলের পর আরএসএফ শহরের চারপাশে নির্মিত একটি অস্থায়ী মাটির প্রাচীর তৈরি করে, যার মধ্যে পালানোর একটি সংকীর্ণ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাচীরের আশপাশে বেসামরিক লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
মৃতদেহ পোড়ানোর প্রমাণ
ইয়েল এইচআরএল জানায়, দুটি স্থানে এমন বস্তু পোড়ানো হয়েছে যা মৃতদেহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। ৬ নভেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে আল-ফাশার হাসপাতালের কাছে কালো ধোঁয়া ও পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, মৃতদেহ পোড়ানো ইসলামী দাফন প্রথার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা ইঙ্গিত করে এটি ছিল প্রমাণ গোপন করার চেষ্টা।
আরএসএফ দখলের পর শহরের প্রতিরোধ কমিটি জানায়, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া আহতদের ‘ভয়াবহভাবে হত্যা’ করা হয়েছে। ইয়েল এইচআরএল আরও বলেছে, হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় এবং শহরের ‘মেলিট গেট’ নামের জায়গায় মৃতদেহ পোড়ানোর কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল ও গণকবরের সন্ধান
প্রতিবেদন অনুসারে, আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত শিশু হাসপাতাল থেকে মৃতদেহের মতো বস্তু সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আল-ফাশার ও গার্নির মধ্যবর্তী রাস্তায় মৃতদেহ ফেলার আশঙ্কা দেখা গেছে। গবেষকরা ধারণা করছেন, হাসপাতালটি ‘সম্ভাব্য গণহত্যার স্থান’ এবং এর বাইরে একটি ‘গণকবর’ চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরএসএফ আল-ফাশার দখলের সময় শহরে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করছিল। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর দারফুরের সাধারণ মানুষের জন্য এটি ছিল শেষ আশ্রয়স্থল। যদিও কিছু মানুষ পাশের তাওয়িলা ও গার্নি শহরে পালাতে পেরেছে, তবুও অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা।
ইয়েল এইচআরএল-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে মানুষের বড় আকারের স্থানান্তর হয়নি। এটি ইঙ্গিত করে যে অনেক বেসামরিক নাগরিক হয়তো নিহত হয়েছেন, বন্দী হয়েছেন, অথবা আত্মগোপনে আছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আরএসএফকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে আল-ফাশারের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। তবে আরএসএফ এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুত্রঃ এএফপি