লিড নিউজ

সুদানে গণহত্যা: পালানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছে আরএসএফ, মৃতদেহ পোড়ানোর প্রমাণ মিলেছে

  • 3:48 am - November 08, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২৭০ বার
শহর দখলের পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং পরে মৃতদেহ সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- সুদানের উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশারে ভয়াবহ গণহত্যা চালানোর পর শহরটি থেকে পালানোর প্রধান পথ বন্ধ করে দিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। শহর দখলের পর সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং পরে মৃতদেহ সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ইয়েল স্কুল অব পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাব (ইয়েল এইচআরএল)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে সহিংসভাবে শহরটি দখলের পর আরএসএফ শহরের চারপাশে নির্মিত একটি অস্থায়ী মাটির প্রাচীর তৈরি করে, যার মধ্যে পালানোর একটি সংকীর্ণ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাচীরের আশপাশে বেসামরিক লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

মৃতদেহ পোড়ানোর প্রমাণ
ইয়েল এইচআরএল জানায়, দুটি স্থানে এমন বস্তু পোড়ানো হয়েছে যা মৃতদেহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়। ৬ নভেম্বরের স্যাটেলাইট ছবিতে আল-ফাশার হাসপাতালের কাছে কালো ধোঁয়া ও পোড়া চিহ্ন দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, মৃতদেহ পোড়ানো ইসলামী দাফন প্রথার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা ইঙ্গিত করে এটি ছিল প্রমাণ গোপন করার চেষ্টা।

আরএসএফ দখলের পর শহরের প্রতিরোধ কমিটি জানায়, হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া আহতদের ‘ভয়াবহভাবে হত্যা’ করা হয়েছে। ইয়েল এইচআরএল আরও বলেছে, হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় এবং শহরের ‘মেলিট গেট’ নামের জায়গায় মৃতদেহ পোড়ানোর কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল ও গণকবরের সন্ধান
প্রতিবেদন অনুসারে, আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত শিশু হাসপাতাল থেকে মৃতদেহের মতো বস্তু সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আল-ফাশার ও গার্নির মধ্যবর্তী রাস্তায় মৃতদেহ ফেলার আশঙ্কা দেখা গেছে। গবেষকরা ধারণা করছেন, হাসপাতালটি ‘সম্ভাব্য গণহত্যার স্থান’ এবং এর বাইরে একটি ‘গণকবর’ চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরএসএফ আল-ফাশার দখলের সময় শহরে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করছিল। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর দারফুরের সাধারণ মানুষের জন্য এটি ছিল শেষ আশ্রয়স্থল। যদিও কিছু মানুষ পাশের তাওয়িলা ও গার্নি শহরে পালাতে পেরেছে, তবুও অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা।

ইয়েল এইচআরএল-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে মানুষের বড় আকারের স্থানান্তর হয়নি। এটি ইঙ্গিত করে যে অনেক বেসামরিক নাগরিক হয়তো নিহত হয়েছেন, বন্দী হয়েছেন, অথবা আত্মগোপনে আছেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো আরএসএফকে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করে আল-ফাশারের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে। তবে আরএসএফ এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

সিডনি ও পার্থে বিএইচএসএএ’র শারদীয় পূজা পরিক্রমা সম্পন্ন

শতদল তালুকদার, সিডনি, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও পার্থে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি হিন্দু শিক্ষার্থীদের সংগঠন বিএইচএসএএ’র (BHSAA) শারদীয় দুর্গাপূজা পরিক্রমা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য…

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au