‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ভারত সীমান্তে কয়েকটি কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ঢাকা সরকারের ওপরও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘চিকেনস নেক’ কী?
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি শহরকেন্দ্রিক একটি সরু ভূখণ্ড, যার প্রস্থ সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। এটি ভৌগোলিকভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে মূল ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করে। করিডরটির পশ্চিমে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও উত্তরে ভুটান অবস্থিত। এই করিডরটিই ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
অঞ্চলের নিরাপত্তা বাড়াতে ভারত এখন বিহারের জোগবানি হয়ে নেপালের বিরাটনগর পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নিউ মল জংশন পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ
ভারতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মিরজার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পর। তিনি বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগেও বাংলাদেশের কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বক্তব্যে ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাবেক বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, “যদি ভারত পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে বাংলাদেশ সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য দখল করে নেবে।” তিনি এ লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান।
ড. ইউনূসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক চীন সফরও নয়াদিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছে। গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভারতের পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্য, যেগুলোকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলা হয়, সেগুলো স্থলবেষ্টিত অঞ্চল, সমুদ্রপথে তাদের কোনো সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। আমরা এই অঞ্চলের একমাত্র ‘সমুদ্র অভিভাবক’।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই অবস্থান আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এটি চীনের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে।”
ড. ইউনূসের এই মন্তব্য নয়াদিল্লির কাছে সরাসরি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে ধরা হয়েছে। ভারত মনে করছে, বাংলাদেশ-চীন ঘনিষ্ঠতা ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রভাববলয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় নবনির্মিত ওই সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। ছবিঃ ভারতীয় সেনাবাহিনী
কী পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত?
ভারত ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে আসমের বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায়। এই ঘাঁটিগুলো স্থাপনের লক্ষ্য ‘চিকেনস নেক’ বা সিলিগুড়ি করিডরকে সুরক্ষিত রাখা, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ।
সুত্রঃ এনডিটভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au