ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ
মেলবোর্ন, ২৫ মার্চ- ইরানে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সাম্প্রতিক সময়ে…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায় ও শাহবাগে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে, ফলে সারাদেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে এবং একইসঙ্গে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে বিকেলে শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে অন্তত শতাধিক শিক্ষক আহত হন। আহতদের অনেককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণে বহু শিক্ষক অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং আতঙ্কে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশ নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তারা শাহবাগ এলাকা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবিগুলো হলো-
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম থেকে উন্নীত করে ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ।
২. উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতির জটিলতার স্থায়ী সমাধান।
৩. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির কারণে সারা দেশের প্রাথমিক স্তরের পাঠদান সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে সহকারী শিক্ষকরা নিজেদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আন্দোলনে নামেন।
অন্যদিকে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আরেকটি অংশ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংগঠনটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো দৃশ্যমান সমাধান না এলে তারা পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেবে।
দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au