মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- দীর্ঘ দশক ধরে চলা সশস্ত্র আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মাওবাদী বিদ্রোহীদের তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয় মাওবাদী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদী বিদ্রোহীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ছত্তিশগড় পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুন্দররাজ পাট্টিলিনগম টেলিফোনে এএফপিকে জানান, ‘‘সংঘর্ষের পর আমরা জঙ্গল থেকে ছয় মাওবাদীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছি।’’
তিনি আরও বলেন, বিজাপুর জেলার জঙ্গলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের সময় ছয়জন মাওবাদী নিহত হন। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মাওবাদীদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি, যদিও বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এই সংঘর্ষ এমন সময়ে ঘটল, যখন দুই মাস আগে মাওবাদী বিদ্রোহীরা নিজেদের দীর্ঘ সশস্ত্র আন্দোলন স্থগিত করে ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিল।
এর আগে গত মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘‘যারা অস্ত্র ছেড়ে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাদের স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু যারা এখনো অস্ত্র ধরে রাখবেন, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর জবাব পাবেন।’’
চীনা বিপ্লবী নেতা মাও সেতুংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৭ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ি এলাকায় সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। সেই থেকে এই বিদ্রোহীরা ‘নকশাল’ বা মাওবাদী নামে পরিচিত। তারা দাবি করে, তারা আদিবাসী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছে।
গত পাঁচ দশকে দেশটিতে মাওবাদী বিদ্রোহে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বিদ্রোহী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।
২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে মাওবাদীরা ভারতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। সে সময় তাদের যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে তাদের শক্তি অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে গেছে।
গত অক্টোবরে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার জানিয়েছিল, দুই দিনের অভিযানে মাওবাদীদের জ্যেষ্ঠ নেতা মল্লোজুলা ভেনুগোপাল রাওসহ ২৫০ জনেরও বেশি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মাওবাদী বিদ্রোহ সম্পূর্ণভাবে দমন করার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au