মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- রাজধানী ঢাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন থানা ও এলাকায় আলাদা আলাদা অভিযানে ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সরকারবিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু সংগঠনসংক্রান্ত নথি ও ডিজিটাল ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে প্রবেশের মুখে রাত ৯টার পর ব্যারিকেড বসিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের অনেকে জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাতের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়কে অবস্থানরত মানুষদের সরিয়ে দেন এবং পরে সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, আওয়ামী লীগের ঘোষিত আগামী ১৩ নভেম্বরের লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ এই কড়াকড়ি নিরাপত্তা নিয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, “শুধু ৩২ নম্বর নয়, পুরো ধানমন্ডি জুড়েই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল, চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের অরাজকতা বা সহিংসতা না ঘটে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহন তল্লাশিও বাড়ানো হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সংগঠক। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগে থেকেই পুলিশ নজরদারিতে রেখেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় কর্মসূচি প্রচার ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে চেকপোস্টে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।