বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, উত্তরের জেলায় বিদ্যুৎ সংকট
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ করেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসার কারণে বয়লার পাইপ ফেটে এই…
মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের রায়ের দিন ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদালত জানিয়েছে, এ মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই তারিখ নির্ধারণ করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ আরও অনেকে।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর এই মামলায় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক ও সমাপনী বক্তব্য শেষ হয়। সেই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪০০ মানুষ নিহত হন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। প্রসিকিউশন আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ দণ্ড প্রার্থনা করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, তাঁর মক্কেলরা নির্দোষ এবং এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বলেন, রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যে অসংগতি রয়েছে। মাহমুদুর রহমান শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তি দেন তিনি। পাশাপাশি রাজসাক্ষী মামুন নিজের বাঁচার পথ খুঁজতে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন।
রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এর আগে গত ১০ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা–গণহত্যা সংঘটনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। আমি রাজসাক্ষী হয়ে আদালতের সামনে সব বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই।”
এই বক্তব্যের পর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। সেই সময় আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন।
প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনেন। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র রয়েছে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা, এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ রয়েছে ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠায়।
বিচারক মজুমদার বৃহস্পতিবার আদালতে বলেন, “এই মামলার রায় প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচারিক বিবেচনায় আমরা ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করব।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন মামলা। ১৫ বছরের শাসনকাল শেষে তাঁর সরকারের পতন ও পরবর্তী সময়ে শুরু হওয়া এই বিচার দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গভীর প্রভাব ফেলবে।
এদিকে রায়ের তারিখ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি “ষড়যন্ত্রমূলক মামলা” এবং “রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ।” দলটি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন রাজধানী ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au