মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে এক ভুয়া জ্যোতিষী নারী ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই। অভিযুক্ত মা-মেয়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে নিজেদের “আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা” পরিচয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) নিউইয়র্কের ফেডারেল কোর্টে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ৬২ বছর বয়সী সোফিয়া মিলার ও তার ৩৫ বছর বয়সী মেয়ে লিসা মিলার মানুষকে বিশ্বাস করাতেন যে তারা “অলৌকিক শক্তি” দিয়ে ভবিষ্যৎ জানাতে ও দুর্ভাগ্য দূর করতে পারেন। তারা ধনী ব্যবসায়ী, অভিনেতা, এমনকি চিকিৎসকদেরও ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি ডলার আদায় করতেন।
এফবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, সোফিয়া ও লিসা নিজেদের পরামর্শ কেন্দ্রকে “হোলিস্টিক স্পিরিচুয়াল হিলিং ইনস্টিটিউট” নামে পরিচিত করলেও সেখানে চলত প্রতারণার ব্যবসা। তারা ক্লায়েন্টদের বলেন, “তাদের জীবনের দুর্ভাগ্য দূর করতে মূল্যবান সম্পদ বা নগদ অর্থ অস্থায়ীভাবে জমা দিতে হবে।” পরে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, মা-মেয়ে বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করতেন এবং বিলাসবহুল গাড়ি, গয়না ও বাড়ি কেনায় সেই অর্থ ব্যয় করতেন।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিছু ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে একবারে ১০ লাখ ডলারের বেশি নেওয়া হয়েছিল “অভিশাপ দূর করার আচার” বা “আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি”র নামে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোফিয়া ও লিসা উভয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং ভুয়া ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তারা সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হবেন।
এফবিআইয়ের মুখপাত্র জন হুইটম্যান বলেন, “এটি ছিল এক জটিল আর্থিক প্রতারণা। অভিযুক্তরা মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এমন অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের আওতায় আসবেই।”
বর্তমানে মা-মেয়েকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে।