আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- সিডনির নার্স নেরিডা রোসেনথাল জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন ৩৩ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায়। প্রথম সন্তানের নড়াচড়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। “আমি তখন কাজে ছিলাম, ব্যস্ত একটা দিন যাচ্ছিল,” বলেন রোসেনথাল। “বিকেলে বসে ভাবলাম, আমি তো ওর নড়াচড়া খেয়ালই করিনি।”
উদ্বেগ নিয়ে তিনি নিয়মিত আকুপাংচার সেশনে যান, যেখানে সাধারণত তাঁর মেয়ে নাড়াচাড়া করত। কিন্তু সেদিন নীরবতা। স্বামীকে ফোন করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে শিশুর হার্টবিট পরিমাপের জন্য কার্ডিওটো কোগ্রাফি (CTG) মেশিনে যুক্ত করা হয়। যন্ত্রে হার্টবিট ধরা পড়ায় কর্মীরা নিশ্চিন্ত হলেও রোসেনথালের মনে হয়, সেটা তাঁর নিজের হৃদস্পন্দনই ধরা পড়েছে।
তিনি জোর দেন আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানের জন্য। চিকিৎসক এসে স্ক্যান করে জানান ভয়ংকর খবর- শিশুর কোনো হার্টবিট নেই। তাঁদের কন্যা মিয়া নাভির দুর্ঘটনায় মারা গেছে; কর্ডটি দুইবার গলায় পেঁচিয়ে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৩৮০ পরিবার এমন শোকের মুখে পড়ে। সরকারি তথ্য বলছে, গত ২০ বছরে মৃতভ্রূণের হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের (AIHW) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রতি এক হাজার জন্মে মৃতভ্রূণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.০, যা আগের বছরের ৭.২-এর চেয়ে বেশি।
সরকারি পরিকল্পনা ও তদন্ত
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিনেট মৃতভ্রূণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর ২০২০ সালে সরকার চালু করে ‘ন্যাশনাল স্টিলবার্থ অ্যাকশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান’। এতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মৃতভ্রূণের হার ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়।
তবে বাস্তবে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। রোসেনথাল বলেন, “এত বছর পরও পরিসংখ্যানে কোনো উন্নতি না হওয়া হতাশাজনক। আমরা জানি, অনেক মৃত্যুই প্রতিরোধযোগ্য। তাই সচেতনতা বাড়ানো দরকার।”
সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে মৃতভ্রূণ সচেতনতা বাড়াতে একটি সংসদীয় পিটিশনে ছয় হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। উদ্যোগটি নিয়েছেন টিম ও মিশেল ম্যাক্রানর, যাঁরা ২০০১ সালে তাঁদের কন্যা সেলেস্টকে হারিয়েছিলেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে Her Name is Celeste নামের প্রামাণ্যচিত্র।

গত দুই দশক ধরে অস্ট্রেলিয়ায় মৃত শিশুর জন্মের হার দেখানো একটি গ্রাফ। (অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার)
মৃতভ্রূণের হার কমছে না কেন?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির পরও মৃতভ্রূণের হার স্থবির অবস্থায় আছে। অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দুই দশকে কোনো ধারাবাহিক উন্নতি হয়নি। কোভিড-১৯ মহামারি, ২০১৯–২০ সালের বনাঞ্চল আগুন, এবং জন্মহারের পরিবর্তনের মতো ঘটনাগুলোর প্রভাবও পড়েছে।
স্টিলবার্থ সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্সের পরিচালক ভিকি ফ্লেনাডি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় মাতৃত্বকালীন সেবা ব্যাহত হওয়া ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
“মৃতভ্রূণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আদিবাসী নারী, শরণার্থী ও অভিবাসী নারী, ২০ বছরের কম বয়সী নারী, এবং গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার নারীদের মধ্যে,” বলেন ফ্লেনাডি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ের মৃতভ্রূণের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। তবে ২৮ সপ্তাহের পরের মৃতভ্রূণের হার কিছুটা কমেছে। ২০১২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত এই পর্যায়ে বছরে গড়ে ৩.১ শতাংশ হারে হ্রাস দেখা গেছে।
এই অগ্রগতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে ‘সেইফার বেবি বান্ডল’ নামে একটি কর্মসূচি, যা ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায় ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়। এটি যুক্তরাজ্যের এনএইচএসের Saving Babies’ Lives Care মডেলের অনুসরণে তৈরি।
ফ্লেনাডি বলেন, “কোভিডের আগের ভিক্টোরিয়া রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচি চালুর পর ২৮ সপ্তাহের পরের মৃতভ্রূণের হার ২১ শতাংশ কমেছে।”
কার্যকর উদ্যোগ ‘সেইফার বেবি বান্ডল’
এই উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ‘সেইফার বেবি বান্ডল’ কর্মসূচি, যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ও মাতৃত্বসেবা কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের এনএইচএসের Saving Babies’ Lives Care মডেল অনুসারে তৈরি।
ফ্লেনাডি জানান, “কোভিডের আগের ভিক্টোরিয়া রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচি চালুর পর ২৮ সপ্তাহের পর মৃতভ্রূণের হার ২১ শতাংশ কমেছে।” এই কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসকরা ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের আগে থেকে চিহ্নিত করে বাড়তি সেবা দিতে পারেন।
সময়োপযোগী তথ্যের অভাব
তবে সমস্যা থেকে গেছে তথ্যপ্রবাহে। মৃতভ্রূণের তথ্য প্রকাশে বর্তমানে তিন বছর পর্যন্ত বিলম্ব হয়। ফ্লেনাডি বলেন, “যথাসময়ে তথ্য না থাকলে আমরা বুঝতেই পারি না কোন উদ্যোগ কাজ করছে, কোনটা নয়।”
জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, মৃতভ্রূণ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি মানসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে জন্মসংক্রান্ত মৃত্যুর কারণ দ্রুত শনাক্ত করা যাবে, এবং প্রতিটি ঘটনার বিশ্লেষণ সময়মতো করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃতভ্রূণের হার কমাতে সবচেয়ে প্রয়োজন সচেতনতা, মাতৃত্বকালীন সেবায় সমতা, এবং সময়মতো স্বাস্থ্যতথ্য। রোসেনথাল বলেন, “সব শিশুকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব নয়, কিন্তু অন্তত একজনকেও যদি আগেভাগে সতর্কতা নিয়ে বাঁচানো যায়, তবে সেই প্রচেষ্টা সফল।”
সুত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au