বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ নভেম্বর- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফার্স্টপোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত এক বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর যে হামলার ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, তা মোটেই বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়।
তাঁর ভাষায়, এগুলো “চরমপন্থীদের সংগঠিত পরিকল্পনার অংশ”, আর অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা “নীরব সমর্থন বা যোগসাজশের মতো”।
২০২৪ সালের অস্থিরতার পর দিল্লির একটি অজ্ঞাতস্থানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন হাসিনা। দেশত্যাগ, সরকার পতন এবং পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, যেসব ঘটনাকে জনপ্রিয় আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, তার আড়ালে চরমপন্থীরা রাষ্ট্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সংখ্যালঘুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের সময় ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সংখ্যালঘুরা ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। “মন্দিরে হামলা হচ্ছে, ঘরবাড়ি লুট হচ্ছে, ব্যবসা ধ্বংস করা হচ্ছে, পরিবারগুলোকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব থামানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না,” বলেন তিনি।
হাসিনার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা শুধু অবহেলা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। “ইউনুস প্রশাসন এই সহিংসতার প্রক্রিয়ায় কোনো না কোনোভাবে যুক্ত রয়েছে।”
হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগ বেড়েছে। আগুন লাগানো, ভাঙচুর, মূর্তি ধ্বংস, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হত্যা, ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তার- এমন নানা অভিযোগ নিয়মিতই উঠছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সহিংসতার ২৫৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সরকার এসব ঘটনার বেশিরভাগকেই রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করায় অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে, আর সংখ্যালঘুরা নিজেদের আরও অনিরাপদ মনে করছে।
হাসিনা বলেন, “চরমপন্থীরা যখন সংখ্যালঘুদের ওপর সংগঠিত হামলা চালাচ্ছে তখন আন্তর্জাতিক মহল নীরব থাকতে পারে না।” তাঁর মতে, নীরবতা কেবল সহিংসতাকে উসকে দেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও দুর্বল করবে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতি, রাজনৈতিক স্থায়িত্ব এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।