ফাতেমা আক্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ নভেম্বর- রাজধানীতে শিক্ষক আন্দোলনে অংশ নিয়ে সাউন্ড গ্রেনেডের অভিঘাতে আহত হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন। রবিবার সকালে মিরপুরের অলক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে নতুন শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
ফাতেমা আক্তার চাঁদপুরের উত্তর মতলবের ৫ নম্বর ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। দুই সন্তানের এই মা ৮ নভেম্বর শাহবাগে কলম বিরতি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দে তিনি তীব্র আতঙ্কে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখেন।
সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, আন্দোলনের দিন থেকেই তিনি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক আঘাতের মধ্যে ছিলেন। রবিবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি দুঃখজনক এবং আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (শাহীন–লিপি) নেত্রী খায়রুন নাহার লিপি জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া এই শিক্ষিকার মৃত্যু পুরো শিক্ষক সমাজকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলনে জীবন হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাতেই চাঁদপুরের উত্তর মতলব উপজেলায় নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে ফাতেমা আক্তারকে দাফন করার কথা রয়েছে।
চলমান তিন দফা দাবিতে আন্দোলন নিয়ে শিক্ষক সমাজে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার মৃত্যু।