শাহবাগে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর…
মেলবোর্ন, ১৭ নভেম্বর-
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে রায় পাঠ করছেন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ। পুরো কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করছে বিটিভি, যা দেশের আদালত ইতিহাসেও নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয় এবং নতুন কাঠামোয় প্রথম যে মামলাটি নেয়া হয় সেটিই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা এই বিবিধ মামলা। ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো মামলায় কোনো আসামি রাজসাক্ষী হতে সম্মত হয়েছেন। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ‘অ্যাপ্রুভার’ হওয়ার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করে। তাঁর জবানবন্দিতে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগকে সমর্থন করেন এবং ঘটনার বিবরণ দেন বলে জানা যায়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তদন্ত সংস্থা এ বছরের ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয় এবং ১ জুন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনাকে জুলাই থেকে আগস্টের নৃশংস ঘটনার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সর্বোচ্চ কমান্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, এরপর আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা এখনো বিচারাধীন। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে গুম ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আরেকটি মামলা করা হয়েছে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে। আইনজীবীরা বলছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে আজ ঘোষণাধীন রায়টিই প্রথম, তাই দেশের রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au