শাহবাগে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর…
মেলবোর্ন, ১৭ নভেম্বর- ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ এর সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ জন্য য়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে মৃত্যূদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ ছিল।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। ৪টি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপি তাঁর সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করেছেন, যা ট্রাইব্যুনালের ভাষায় সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
সোমবার দুপুর থেকে ট্রাইব্যুনালে রায়ের শেষ অংশ পড়া শুরু হয়। সেখানে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে এবং বিপক্ষে উত্থাপিত যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, এবং পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা রায়ে উঠে আসে।
বিচার চলাকালীন উপস্থাপিত অডিও, ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে তুলে ধরা হয়। ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পাওয়া ভিডিওগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় শেখ হাসিনার নির্দেশ পালনের ধারাবাহিকতা এবং সেই নির্দেশের পরিণতিতে সংঘটিত হত্যার দৃশ্য।
রায়ে বলা হয়, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া এবং রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলি চালানোর ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যও আদালতে বিবেচনা করা হয়।
একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন থেকে প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্ধৃত করে শোনানো হয়। বিচারকাজ চলার সময় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ফোনালাপও ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়। এর মধ্যে ছিলেন সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মাকসুদ কামাল।
৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের ছয়টি অংশের পাঠ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়।
এর মধ্যেই রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নতুন একটি অডিওবার্তা দেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নিয়মিত বার্তা পাঠান। সর্বশেষ অডিওবার্তায় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে রায়ই আসুক, তিনি বিচারের ভয় পান না এবং জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হয়ে দেশের রাজনীতিতে ফিরবে। একই বার্তায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগ তুলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি রয়টার্সকে জানান, তাঁর ধারণা ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং সম্ভাব্য শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।
তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, এ নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা নেই, কারণ তার মা ভারতে নিরাপদে রয়েছেন এবং ভারত সরকার তার নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে। জয়ের ভাষায়, রায়ের দিকনির্দেশনা আগেই পরিষ্কার ছিল এবং রায় সরাসরি প্রচার হওয়ায় সবাই তা দেখতেও পারবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au