রায়টিকে “ক্ষমতার অপব্যবহার” হিসেবে উল্লেখ করে বিশপ কুবি মন্তব্য করেন, “যদি তাড়াহুড়ো করে নিজের মতো করে রায় দেওয়া হয়, তবে তা সভ্যতার পরিচয় নয়—এ যেন আদিম যুগে ফিরে যাওয়া।”
মেলবোর্ন, ১৯ নভেম্বর: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডকে “একতরফা” ও “রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলনের (BCBC) সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ ডায়োসিসের বিশপ পোনেন পল কুবি, সিএসসি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ক্যাথলিক চার্চ কখনোই মৃত্যুদণ্ডকে সমর্থন করে না।
ক্যাথলিক নিউজ এজেন্সি (CNA)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশপ কুবি বলেন, ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়টি “একতরফা”, এবং “আসামির কোনো আইনজীবী ছিল না- বর্তমান সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এই রায় দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাথলিক চার্চ কখনো মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না। শেখ হাসিনা যদি কোনো অপরাধ করেও থাকেন, তবে তার জন্য এমন শাস্তি হওয়া উচিত যা সংশোধনের সুযোগ রাখে।”
রায়টিকে “ক্ষমতার অপব্যবহার” হিসেবে উল্লেখ করে বিশপ কুবি মন্তব্য করেন, “যদি তাড়াহুড়ো করে নিজের মতো করে রায় দেওয়া হয়, তবে তা সভ্যতার পরিচয় নয়-এ যেন আদিম যুগে ফিরে যাওয়া।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সংঘটিত সহিংস দমন-পীড়নের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান।
সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং গণহত্যা ঠেকাতে ব্যর্থতা।
আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা রায়কে “বিকৃত, পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত” বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, “এ রায় দিয়েছে একটি অনির্বাচিত সরকার, যাদের কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই।”
রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করলেও ঢাকাসহ বহু এলাকায় সাধারণ মানুষ আনন্দ মিছিল করে, মিষ্টি বিতরণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এটি “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় অর্জন” এবং “জুলাই বিপ্লবের আরেক বিজয় দিবস”।
এ মামলায় একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে, আর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা চাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Source: catholicnewsagency.com