শাহবাগে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ডাকসুর দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর…
মেলবোর্ন, ১৯ নভেম্বর- বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের পর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সোমবারের এই রায় নিয়ে বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। একই মামলায় তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড জানান, গত বছরের আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার প্রয়োজন হলেও এই মামলার রায় ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করেনি। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার জরুরি, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড নিষ্ঠুর ও অমানবিক শাস্তি।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন। তবে অনুপস্থিতিতে বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচার হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয় এবং এমন মামলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও অন্যায্য বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেও এই প্রবণতা কমেনি।

ছবিঃ সংগৃহীত
বর্তমানে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার চলছে। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা, যেখানে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। গত বছরের আগস্টে সহিংস দমন–পীড়নের সময় প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারত আশ্রয় নেন। তিনি রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
বিচারপতি গোলাম মোর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করে। আদালতে রায় ঘোষণা শেষে উপস্থিতদের অনেককে উল্লাস করতে দেখা যায়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগবিধি নিয়ে ছাত্র আন্দোলন দ্রুত দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোবের রূপ নেয় এবং পরে “জুলাই বিপ্লব” নামে পরিচিত হয়। সেই আন্দোলন থেকেই শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের পতন ঘটে।
রায়ের দিন সন্ধ্যায় প্রতিবাদকারীরা বুলডোজার নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। ভবনটি, যা একসময় জাদুঘর ছিল, অপসারণের পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। বাইরে দেখা যায় বিভিন্ন গ্রাফিতি, যেগুলোতে শেখ হাসিনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্য জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা ইটপাটকেল ছোড়ে এবং পুলিশ শব্দগ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au