মেলবোর্ন, ২০ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মজুদ দ্রুত কমে আসায় বিরোধী নেতা সুসান লেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার মতে, দেশের ফুয়েল রিজার্ভ মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্যই যথেষ্ট, যা কোনো বড় সংকট বা আক্রমণের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানির ৯০ দিনের মজুদ রাখার। তবে গত দশকের বেশিরভাগ সময় ধরে দেশটি এই মান পূরণে ব্যর্থ। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পেট্রোলের মজুদ ২৮ দিন, ডিজেল ২৫ দিন এবং জেট ফুয়েল মাত্র ২০ দিন।
মেলবোর্নের মেনজিস ইনস্টিটিউটে এক থিঙ্কট্যাঙ্কে ভাষণ দেওয়ার সময় লেই বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে অনেক পিছিয়ে আছি। এর ফলে দোকানের তাক ফাঁকা হবে, প্রয়োজনীয় পরিবহন বন্ধ হবে, এবং গুরুত্বপূর্ণ সেবা থমকে যাবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমও প্রভাবিত হবে।” তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা কৌশলবিদদের এই সমস্যার গুরুত্ব বোঝা জরুরি, নাহলে জনগণের সহনশীলতা শেষ হয়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়া তার জ্বালানির বেশিরভাগ আমদানি আসে এশিয়ার পরিশোধন কেন্দ্র থেকে, প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলো হলো সিঙ্গাপুর, জাপান ও মালয়েশিয়া। তবে শিপিং লাইনগুলো এমন এলাকায় চলে যা যদি চীনের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়, দ্রুত শত্রুতাপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
লেন সতর্ক করে বলেন, “আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা এতই দুর্বল যে, কোনো আঞ্চলিক সংকট বা যুদ্ধ ছাড়াই আমরা বিপজ্জনকভাবে প্রভাবিত হতে পারি। নিয়মিত শিপিং ব্যাহত হলে সমাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যাবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে যে শিপিং পুনর্গঠনযোগ্য, তাই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভাবনা কম। তবে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যথেষ্ট জ্বালানি সরবরাহ যাতে সমাজ সচল থাকে।
সুসান লেই আলবেনসে সরকারের প্রতি অভিযোগ করেন যে, তারা ইউরোপের রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতার শিক্ষা নেয়নি। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ইউরোপ বিকল্প জ্বালানি ও শক্তি খুঁজতে বাধ্য হয়, যা ভোক্তা জ্বালানি ও শক্তি মূল্যে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি আনে।
লেই বলেন, “রাশিয়া এই জ্বালানি নির্ভরতা ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে, পাইপলাইন ক্ষতিসাধন ও প্রবাহ বন্ধ করে। অর্থনৈতিক, সাইবার, নাশকতা বা সন্ত্রাস, বিশ্বায়িত শক্তি সরবরাহ চেইনের অস্ত্রায়ন এখানেই আছে। সরবরাহ বৈচিত্র্য ও উৎপাদনে সার্বভৌমত্ব বৃদ্ধি করাই একমাত্র সমাধান। তবে অদ্ভুতভাবে, অস্ট্রেলিয়া এই সার্বভৌমত্ব কমাচ্ছে, বাড়াচ্ছে না।”
এই পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে অস্ট্রেলিয়ার সমাজ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রাথমিক সংকটে বিপর্যস্ত হতে পারে।