মার্চে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, নয় মাসে ঘাটতি প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই…
মেলবোর্ন, ২০ নভেম্বর- কোনো কারণ উল্লেখ না করেই প্রশাসন ক্যাডারের তিন বিসিএস কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই তিনজনকে “পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮” এর ধারা অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত বা ব্যাখ্যার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। প্রজ্ঞাপনে শুধু চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
চাকরিচ্যুতদের মধ্যে দুইজন হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা, আর এ কারণেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকেই বলছেন, এমন সময়ে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া দুই হিন্দু কর্মকর্তার চাকরি হারানো বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
প্রশাসনের ভেতরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ সাধারণত কোনো কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত হলে আগে বিভাগীয় তদন্ত, শোকজ নোটিশ, জবাব গ্রহণ, এবং পরে সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হঠাৎ এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ প্রশাসনিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তারা মনে করেন, সিদ্ধান্তটি ব্যাখাহীন হওয়ায় সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের চর্চা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেকেই।
মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই কর্মকর্তাকে কারণ না জানিয়ে বরখাস্ত করার ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতার জায়গায় আঘাত করেছে।
তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যে সবার সমান অধিকার থাকা উচিত, এই সিদ্ধান্ত তার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। প্রশাসনে ধর্ম, মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি হলে তা গোটা রাষ্ট্র কাঠামোর প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে।
আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, যদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অভিযোগ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তা প্রমাণ করা, শোকজ নোটিশ দেওয়া এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। কারণ ছাড়া চাকরিচ্যুতি শুধু বিতর্ক নয়, আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে এটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এ ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তারা বলছে, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক পথেই হওয়া দরকার, নইলে এটি বিভ্রান্তি, অনিশ্চয়তা এবং বৈষম্যের আশঙ্কা আরও বাড়াবে।
সরকারি কোনো সূত্র এখনও এই সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি। পুরো বিষয়টি ঘিরে জটিলতা ও আলোচনার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au