চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২০ নভেম্বর-দিল্লির লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন তারা এসব সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অভিযুক্তদের দাবি ও পরিবারের বক্তব্যে উ ঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
১০ নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তদন্ত শুরু করে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। সংস্থাটি প্রথমে ১৬ নভেম্বর কাশ্মীরের বাসিন্দা আমির রশিদ আলিকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। অভিযোগ, তিনি আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত চিকিৎসক উমর উন নবীর সহযোগী।
এনআইএর দাবি, বিস্ফোরণের সময় যে গাড়িটি ব্যবহৃত হয় সেটি চালাচ্ছিলেন উমর উন নবী। পুলওয়ামার কোইল গ্রামের তার বাড়িটি কয়েক দিন আগে বিস্ফোরক দিয়ে ভেঙে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। এখন সেখানে শুধু ধ্বংসস্তূপ।
পরিবার জানায়, উমর দেড় বছর আগে কাশ্মীর ছেড়ে ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। মা-বাবা, ভাই এবং বোনকে নিয়ে তার সংসার। পরিবারের সদস্য মুজাম্মিল আখতার বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও বাড়িতে এসেছিল উমর। হঠাৎ তাকে আত্মঘাতী হামলায় জড়ানোর খবর তাদের স্তম্ভিত করেছে।
পরিবারের দাবি, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা উমর পরিশ্রম করে লেখাপড়া শেষ করেছেন এবং বাড়ির বাইরে তার কোনো সম্পত্তি নেই। সম্প্রতি তার বাগদানও সম্পন্ন হয়।
সাম্বুরা গ্রামের প্লাম্বার আমির রশিদ আলিকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। তার পরিবার জানায়, তিনি অবিবাহিত এবং স্থানীয়ভাবে ছোট কাজ করেই জীবন চালাতেন। ১০ নভেম্বর রাতে পুলিশ আমির ও তার বড় ভাই উমর রশিদকে তুলে নিয়ে যায়। বড় ভাইকে পরে ছাড়া হলেও আমির এখনও নিখোঁজ।
কুলসুম জান, উমর রশিদের স্ত্রী, জানান পুলিশ তাদের বলেছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। পরে এনআইএর দল এসে শ্রীনগরের দফতরে হাজির হতে বলে। পরিবারের দাবি, ভাই দুজনের বিরুদ্ধে কখনো কোনো মামলা ছিল না এবং কেউ তাদের কখনো সন্দেহ করেনি।
মা বলেন, তিনি ছেলে সম্পর্কে অভিযোগগুলো বিশ্বাস করতে পারছেন না। তার ভাষায়, আমির সাধারণ গ্রামের মানুষের মতোই কাজ করত, প্রতিবেশীদের সাহায্য করত, এবং কোনো অপরাধে জড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না।
প্রেস বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, উমর উন নবীর সঙ্গে মিলে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন আমির রশিদ আলি। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত বলে দাবি করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৭৩ জন সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
১৭ নভেম্বর শ্রীনগর থেকে জাসির বিলাল ওয়ানি নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরণের আগে ড্রোন ও রকেট তৈরি করে প্রযুক্তিগত সহায়তার সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে তার বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করে মারা যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তারা নির্দোষ এবং ভুল অভিযোগে হয়রানির শিকার।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে আরেক চিকিৎসক আদিলকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্ত চলমান। পরিবারের দাবি ও সংস্থার অভিযোগ এখন সমান্তরালভাবে সামনে আসছে। সত্যতা নির্ধারণ এখন তদন্তকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au