ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ২০ নভেম্বর- ঢাকায় সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে গভীর রাতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে আটকের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, কেন কোনো পরোয়ানা ছাড়া গভীর রাতে একজনকে তুলে নেওয়া হলো। জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে কেন আনা হলো, তা নিয়ে সরাসরি সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া আটক অবস্থায় তার কাছ থেকে নেওয়া মুচলেকা মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তারা বলছেন, আগস্টের পর আশা করা নৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন বাস্তবে হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাত থেকেই ঘটনার পেছনের ইঙ্গিত ছড়াতে থাকে। কেউ কেউ একটি ‘বিশেষ সহকারী’কে যুক্ত করার ইঙ্গিত দেন। তবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাংবাদিককে গভীর রাতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীমউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) বাস্তবায়নের সঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে জড়িয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে সত্যের অপলাপ করা হয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজে বলেছেন, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা এনইআইআর বাস্তবায়ন করছেন। অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসি বৈঠক করেছে। তবুও একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কিছু গণমাধ্যম তার ওপর দায় চাপিয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাজ করছে এবং তার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
মিজানুর রহমান সোহেল পরে নিজে জানিয়েছেন, তিনি ওই দিন মিডিয়া পরামর্শক হিসেবে বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর একটি প্রেস কনফারেন্সে ছিলেন, এবং সেটি বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য ছিল। তিনি বলেন, দেশের মুক্তবাণিজ্য নীতির সঙ্গে এনইআইআর সাংঘর্ষিক। এতে মাত্র ৯ জন ব্যবসায়ী সুবিধা পাবেন, কিন্তু দেশের প্রায় ২৫ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী বিপদে পড়বেন। তার মতে, ওই ৯ ব্যবসায়ীর মধ্যে একজন উপদেষ্টার স্কুলবন্ধু। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার কেন ভয় পায় এবং শুধু প্রেস কনফারেন্স বন্ধ করতেই তাকে গভীর রাতে তুলে নিতে হলো।
প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বাসায় ফিরে সাংবাদিক জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে আনা হয়েছিল। তাকে দেওয়া মুচলেকা হলো একটি আইনি অঙ্গীকারনামা, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা না ঘটে। তবে তিনি বলছেন, মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তার কপি দেয়া হয়নি। তিনি আইন অনুযায়ী মুচলেকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, কিন্তু আটক করার সময় আইন মানা হয়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেছেন, তারা এই মুচলেকার বিষয়ে অবহিত নন। আইনি দিক থেকে মুচলেকা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৬, ১০৭, ১০৮ ও ১০৯ অনুযায়ী নেওয়া হয়। ধারা ১০৭ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি শান্তি ও জনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক কাজ করতে পারে, তাকে বন্ড বা মুচলেকা দিতে হতে পারে। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধারার অধীনে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের নামে সাংবাদিককে আটক করা উচিত নয়। গভীর রাতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে তুলে নেওয়া নৈতিক ও আইনগতভাবে সঠিক নয়। তিনি বলেন, “আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে, মুচলেকা নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। সংস্কৃতির যে পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, আমরা তা থেকে অনেক দূরে এসেছি।”
সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au