‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- হোয়াইট হাউসে নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠককে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত, জনসমালোচনা এবং দলীয় প্রভাব কমে যাওয়ার মতো চাপের মুখে ছিলেন ট্রাম্প। তাই নজর ঘোরাতে তিনি সাধারণত যেটা করেন, সেটাই করেছেন।
অতীতে দেখা গেছে, সংকটে পড়ে ট্রাম্প কোনো সংঘাতে জড়ান বা নতুন প্রতিপক্ষকে সামনে আনেন। এবার সেই ভূমিকায় আনা হয়েছে মামদানিকে।
হোয়াইট হাউস জানায়, মামদানিকে বৈঠকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প এক দিন আগে দাবি করেন, বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন মামদানিই। স্থানীয় সময় বিকাল তিনটা এবং বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে মামদানির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষায় বারবার বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কৌতূহল তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প যেসব সংকটে পড়েছেন, সেগুলো রাজনৈতিকভাবে তার অবস্থান দুর্বল করেছে। রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে তার দীর্ঘদিনের প্রভাব কমছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে। জেফরি এপস্টেইন ইস্যুতে একের পর এক ভুল মন্তব্য তাকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টায় তিনি উল্টো উপহাসের শিকার হয়েছেন। এসব পরিস্থিতি তাকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে। তাই নতুন কোনো সংঘাত সৃষ্টি করতে তিনি আগ্রহী ছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে একটি ভিডিওতে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাকে সেনাদের উদ্দেশে বলতে দেখা যায় যে বেআইনি আদেশ মানার বাধ্যবাধকতা নেই। ট্রাম্প এটিকে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ বলে উল্লেখ করেন এবং শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। এতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তার সংঘাত আরও তীব্র হয়।
ওই ভিডিওতে থাকা আইনপ্রণেতা ক্রিসি হলাহ্যান বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, শুধু আইন মানার কথা বলায় প্রেসিডেন্ট তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছেন, যা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
ট্রাম্পের এই লড়াইয়ের কৌশল নতুন নয়। আগেও ওবামার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী প্রচারণা, ম্যাককেইনের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা নিয়ে তাচ্ছিল্য বা ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ের দাবি করে তিনি আলোচনায় থেকেছেন। এগুলো তাঁকে জনপ্রিয়তার একটি ভিত্তি দিয়েছে। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্র যখন অর্থনৈতিক দুর্বলতার মুখে এবং ট্রাম্পের সমর্থন কমছে, তখন এ কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে মামদানির সঙ্গে বৈঠককে অনেকে ট্রাম্পের আরও একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। নিজের ভুল থেকে নজর সরাতে তিনি আবার সংঘাতমুখী রাজনীতির পথে হাঁটছেন।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে দুজনই আলোচিত। কিন্তু বয়স, অভিজ্ঞতা আর রাজনৈতিক অবস্থানে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে। ট্রাম্পের বয়স এখন ৭৯ এবং তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ সময়। মামদানি মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।
ট্রাম্প মামদানিকে সামনে এনে সব ডেমোক্র্যাটকে চরমপন্থী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে। তিনি মামদানিকে কমিউনিস্ট বলে উল্লেখ করেছেন, যদিও মামদানি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি তাঁর নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প।
বৈঠকটি মামদানির জন্য বড় পরীক্ষা। ট্রাম্প আগে অনেক অতিথিকে হোয়াইট হাউসে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাই মামদানির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রমাণ করা যে তিনি ট্রাম্পের চাপ সহ্য করতে পারবেন। নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়েও এই সাহস ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au