নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার নর্দান টেরিটরি উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ফিনা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ক্যাটাগরি ২ ছিল, কিন্তু দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে এটি এখন ক্যাটাগরি ৩। আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, ঝড়টি ধীর গতিতে পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আজ রাতেই ডারউইনের একেবারে উত্তরের দিক দিয়ে চলে যাবে।
ব্যুরো অফ মেটেরোলজির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি ইতোমধ্যে ডারউইনের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ঝড়টি ক্যাটাগরি ৩ অবস্থায় ছিল। কেন্দ্রের কাছে টানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। ঝড়টি ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
দিনভর স্যাটেলাইট ও রাডার চিত্র বলছে, ফিনা ডারউইনের খুব কাছে অবস্থান করছে। বিকেল ৫টার পর প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা যায়, ঝড়ের চোখের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে সবচেয়ে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কয়েকশ মিলিমিটার বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং ঘণ্টায় দুইশ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা হাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বছরের এই সময় উত্তর উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের সক্রিয়তা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিনা আগামীকাল ক্যাটাগরি ৪ পর্যন্ত শক্তি পেতে পারে। যদিও এর মূল কেন্দ্র সমুদ্রের দিকেই থাকবে এবং স্থলভাগে সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা কম। বর্তমানে এটি মেলভিল দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থান করছে এবং কাঠামোগতভাবে ছোট হলেও বেশ শক্তিশালী।
রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ব্যুরো। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা শেনাঘ গ্যাম্বল বলেছেন, “আজ রাতটা দীর্ঘ হবে। বাতাস খুব দ্রুত বাড়বে এবং পুরো সিস্টেম একটানা সক্রিয় থাকবে।”
সব ধরনের সতর্কতা অপরিবর্তিত আছে। উপকূলীয় এলাকায় প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলবর্তী মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডারউইনের উত্তরের দিক দিয়ে চলে যাওয়ার পর ফিনা আরও কিছু সময় তীব্র থাকবে। আগামীকাল এবং সোমবার পর্যন্ত এটি গভীর সমুদ্রে শক্ত অবস্থায় টিকে থাকতে পারে। এরপর কিম্বার্লি উপকূলের কাছে পৌঁছানোর সময় এর শক্তি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নর্দান টেরিটরির মানুষের জন্য সামনে একটা কঠিন রাত। ভারি বৃষ্টি, তীব্র বাতাস এবং দীর্ঘস্থায়ী ঝড়ো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au