আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ নভেম্বর- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে মামলার রায় আগামী ২৭ নভেম্বর ঘোষণা করবে আদালত।
রোববার (২৩ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এক আসামির যুক্তিতর্ক শুনার পর রায়ের তারিখ ধার্য করেন। অন্য ১১ আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। তারা আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট জনের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়া। তদন্ত শেষে ১০ মার্চ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি মামলার অন্যান্য আসামি হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউক-এর সাবেক সদস্য শফি উল হক, খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
প্লট বরাদ্দ দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং অন্য মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ বহু ব্যক্তি আসামি করা হয়। এক মামলায় ১৭ জন, অন্য এক মামলায় ১৮ জন এবং আরেক মামলায় ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বাকি তিন মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে অযোগ্য সত্ত্বেও ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন।