হিজবুল্লাহর সশস্ত্র বাহিনী প্রধান হাইতাম আলি তাতাবাই ও সাবেক প্রধান হাশেম সাফিএদ্দিন। দুইজনই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ফাইল ছবি: হিজবুল্লাহ মিডিয়া অফিস
মেলবোর্ন, ২৪ নভেম্বর- বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক নেতা হাইথাম আলী তাবাতাবাই নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি বিমান হামলায়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ তথ্য নিশ্চিত করার পর হিজবুল্লাহও তাদের নেতার মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে। ঘটনাটি অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
রোববার বিকেলে বৈরুতের আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে মুহূর্তে ধসে পড়ে বেশ কয়েকটি ভবন। হামলার পরপরই পুরো এলাকা ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেতানিয়াহু প্রশাসন জানিয়েছে, এ অভিযানটি সরাসরি হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামলায় তাবাতাবাই ছাড়াও আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।
দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাবাতাবাই হিজবুল্লাহর অস্ত্র জোগান, জনবল নিয়োগ এবং সামরিক কাঠামো শক্তিশালী করার দায়িত্বে ছিলেন। নেতানিয়াহু বলেন, এই হামলা হিজবুল্লাহর সক্ষমতায় বড় আঘাত হানবে।
হামলার পর লেবানিজ সেনা, অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েল এ হামলা চালিয়ে একটি গুরুতর সীমা লঙ্ঘন করেছে। তাদের সতর্কবার্তা, এ ধরনের আগ্রাসন সীমান্তজুড়ে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে। সংগঠনটির মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপর হামলা বাড়াচ্ছে।
গত কয়েক মাসে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা বাড়লেও দক্ষিণ বৈরুতে এ ধরনের আঘাত এটাই প্রথম।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে।
সুত্রঃ আল জাজিরা