চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৪ নভেম্বর- তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর পার হলেও মামলার বিচার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ভয়াবহ সেই আগুনে অন্তত ১১৯ শ্রমিক নিহত হন এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরেই স্থবির।
১৩ বছর পরও বিচার না এগোনো নিয়ে শ্রমিক সংগঠন, পর্যবেক্ষক অ্যাক্টিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, আসামি উপস্থিত থাকলেও সাক্ষ্য এগোয় না। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, মামলার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর।
২০১৫ সালে সাক্ষ্য শুরু হলেও গত ১০ বছরে ৬৮টি ধার্য তারিখের মধ্যে মাত্র ১০ দিন সাক্ষী হাজির করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে নাম থাকা ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
১৯ নভেম্বর সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণের দিনও রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি। ওই দিন আসামি দেলোয়ার হোসেনও আদালতে হাজির হননি। তার আগের সেপ্টেম্বরেও অনুপস্থিত ছিলেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যের তারিখ হিসেবে দিয়েছে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ।
ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু সেলিম চৌধুরী জানান, তারা মাত্র এক বছর আগে দায়িত্ব পেয়েছেন। এখনও মামলার নথি পুরোপুরি হাতে পাননি। রেবতি ম্যানসন সংস্কার থাকায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “তারিখ পড়ে তিন থেকে চার মাস পর পর। সময় লাগে তথ্য খুঁজে পেতে। আমরা চেষ্টা করছি।”
আসামি দেলোয়ার হোসেন পরপর দুইবার অনুপস্থিত থাকায় ওয়ারেন্ট ইস্যুর প্রশ্নে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী সে রকম হওয়া উচিত। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে মন্তব্য করেন।
তাজরীন ট্র্যাজেডি পর্যবেক্ষণকারী অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, সবাইয়ের চোখের সামনে শতাধিক শ্রমিক পুড়ে মারা গেল, অথচ বছরের পর বছর সাক্ষী পাওয়া যায় না-এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচার বিভাগের দুর্বলতা বহুদিনের। সরকার সহযোগিতা না করলে এসব মামলায় অগ্রগতি আসে না। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও শ্রমিক মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো উপেক্ষিত থাকে।

ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা-প্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, “১৩ বছরেও বিচার শেষ হয়নি, এটি লজ্জাজনক। জামিনে থাকা মালিক আবার রাজনৈতিক পদও পেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারকে এসব মামলার সুরাহায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”
অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তায় গুরুতর অবহেলা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় মালিককে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছিল।
শ্রমিক অধিকারকর্মীদের মতে, রাষ্ট্রপক্ষের অনীহা, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতা ও দীর্ঘ বিরতিতে তারিখ পড়া-সব মিলিয়ে মামলাটি কার্যত থমকে আছে। রাষ্ট্রপক্ষও স্বীকার করছে, এ পর্যন্ত অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।

ছবিঃ সংগৃহীত
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুর রহমান বলেন, “এতো কম অগ্রগতি হওয়া অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেয়। আমরা নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। সামনে চেষ্টা করব দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার।” তিনি গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে সচেতনভাবে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তাজরীন অগ্নিকাণ্ড বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্পদুর্ঘটনাগুলোর একটি। পরিবারের সদস্যরা এখনো বিচার প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণেই তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিচার কবে শেষ হবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো কেউ দিতে পারছে না। শ্রমিক সংগঠনের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই মামলাটির সুরাহা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে বিচারহীনতার এই দীর্ঘ চক্র আর ভাঙা যাবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au