চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- দেশে নারী নির্যাতনের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ঘর থেকে কর্মস্থল, স্কুল থেকে জনসমাগমস্থল সব জায়গাতেই নারীরা আজও সহিংসতা, হয়রানি ও দমন আচরণের মুখোমুখি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সমাজে বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ফল, যা স্ত্রীকে শাসনের নামে সহিংসতাকে আড়াল করে।
এ অবস্থায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারী নির্যাতনের তথ্য দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স স্ট্র্যাটেজি নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করতে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থানে নারী নির্যাতনের খবর পেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
আজ ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। এই দিন থেকেই শুরু হচ্ছে ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ, যা চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মোট ৬৭৮ নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। শুধু অক্টোবরেই নির্যাতিত হয়েছেন ১০১ কন্যা ও ১৩০ নারী।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সহিংসতা নিয়ে এসেছে ২৬ হাজার ৩১৭টি কল। এর মধ্যে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগেই কল এসেছে ১৪ হাজার ৯২৮টি। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৪১৮। পরিসংখ্যান বলছে, নারীরা ঘরেও নিরাপদ নন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানায়, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৪২৭টি, এই বছর বেড়ে হয়েছে ৫০৩টি। স্বামীর হাতে হত্যার ঘটনাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ১৫৫টি, আর ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ১৯৮টিতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবদ্দশায় স্বামী বা সঙ্গীর হাতে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। সংখ্যায় এই ভুক্তভোগী প্রায় ৮৪ কোটি। গত ১২ মাসে নির্যাতিত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ কোটি ৬০ লাখ নারী।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি, বরং বেড়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুইক রেসপন্স স্ট্র্যাটেজি চালু করা হচ্ছে। তার মতে, যেকোনো নারী বা শিশুর ওপর নির্যাতনের খবর পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রণালয়কে কাজ শুরু করতে হবে।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের আসল কাজ হলো নারী ও শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া। এজন্য এই ব্যবস্থা চালু করলে দ্রুততম সময়ে প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগও জানায়, প্রতিদিনই ভুক্তভোগী নারীরা সাহায্যের জন্য আসছেন এবং বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল সবখানেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। ঘরের ভেতরের সহিংসতাকে অনেকেই ভুলভাবে স্বাভাবিক মনে করেন। সচেতনতা না বাড়ালে এই পরিস্থিতি কমবে না।
তার মতে, নারীকে সমাজের অংশ হিসেবে সমান মর্যাদায় দেখাতে হবে। নারীকে দুর্বল মনে করার প্রবণতা সমাজ থেকে দূর করতে না পারলে সহিংসতা রোধ সম্ভব নয়। পারিবারিক সহিংসতা দমনে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যখন নারী নির্যাতন বেড়েই চলছে, এমন সময়ই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই এখন জরুরি মানবিক দায়িত্ব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au