সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)
মেলবোর্ন, ২৭ নভেম্বর- মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের পর এবার ‘প্লট দুর্নীতি’র তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের একটি আদালত। এছাড়াও ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে। এই অর্থ অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সর্বমোট ১৮ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন শেখ হাসিনা।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের দুইজনকেই ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ না দিলে তাদেরকে আরও ৬ মাসের অতিরিক্ত সাজা খাটতে হবে।
এছাড়াও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের অপরাধে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর বাইরে তিন মামলায় আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
আদালত অবমাননাসহ এ নিয়ে পাঁচটি মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করলো আদালত।
প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, রাজধানীর পূর্বাচলে নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আকারের তিনটি প্লট বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এসব মামলায় গত ৩১ জুলাই হাসিনা ও পরিবারের সদস্যসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এরপর গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
এই তিন মামলায় শেখ হাসিনা, জয় এবং পুতুল ছাড়া অন্য ২০ আসামি হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক হাবিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন। আসামিদের মধ্যে একমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার আছেন।
বছরের শুরুতে ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন। পরে তদন্তে পাওয়া আরো চারজনসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
গত ১৪ জানুয়ারি জয়ের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তার মা শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। তদন্তে নাম আসা আরো দুজনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে ২৪ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
আর পুতুলের প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তার মা শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১২ জানুয়ারি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। পরে তদন্তে পাওয়া আরো দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করেন আফনান।
এছাড়াও প্লট দুর্নীতির অভিযোগে আলাদা তিনটি মামলায় গত ২৫ নভেম্বর শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১ ডিসেম্বর রায়ের দিন রেখেছে আদালত।
এই মাসের ১৭ তারিখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তার আগে গত ২ জলাই আদালত অবমাননার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।