ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের জন্য শাস্তির বিধান রেখে ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ পাস
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মাধ্যমে নকলের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত করে ‘পাবলিক পরীক্ষা…
মেলবোর্ন, ২৮ নভেম্বর- বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করতে ভারতের আসামে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এজন্য একটি আইন করতে রাজ্যসভায় বিল পাস করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার আসাম বিধানসভায় ‘আসাম বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল-২০২৫’ পাস করেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার।
তবে বিরোধী দল কংগ্রেস, সিপিএম এবং রাইজোর দল এই বিলের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে। পরে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি পাস করা হয়।
বিলে বহুবিবাহকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রথম স্ত্রী বা স্বামী জীবিত থাকলে এবং তার সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
যদি প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর, পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও হতে পারে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের প্রক্রিয়ায় যেসব কাজি, পুরোহিত, গ্রামপ্রধান, পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবক, যারা জড়িত থাকবেন, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
ওই বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, বহুবিবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। কেউ যদি একই অপরাধ পুনরায় করেন, প্রতিটি অপরাধের জন্য আগের শাস্তির দ্বিগুণ দণ্ড কার্যকর হবে। সরকারি চাকরি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন দোষীরা।
বিল অনুযায়ী, বহুবিবাহে দোষী সাব্যস্ত হলে:
তিনি রাজ্য সরকারের কোনো চাকরি পাবেন না,
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না,
এবং পঞ্চায়েত বা স্থানীয় নির্বাচনেও প্রার্থী হতে পারবেন না।
এই আইনটি আসামের সব অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে, তবে ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকা- যেখানে উপজাতিদের বিশেষ অধিকার রয়েছে, সেখানে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির সদস্যদের ওপরও এই আইন প্রয়োগ করা হবে না।
কিছুদিন ধরেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণের বিষয়টি আসাম সরকারের আলোচনায় ছিল। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যাদের স্ত্রী বা স্বামী জীবিত এবং যাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি, তারা দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারবেন না।
বিলে উল্লেখ না থাকলেও এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, বাস্তবে বহুবিবাহ নিয়ে সামাজিক অস্থিরতা ও পরিবারে অশান্তির কারণে অনেকেই প্রথাটিকে ঘৃণা করেন। তবে ইসলামে একাধিক বিবাহের অনুমতি থাকলেও সেখানে ইনসাফ, ন্যায়পরায়ণতা ও সমান অধিকারের নিশ্চয়তা বাধ্যতামূলক। যা পূরণ করতে না পারলে একটিতেই সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশনা রয়েছে।
আসাম সরকারের এই নতুন বিল পাস হওয়ায় রাজ্যে বহুবিবাহ কার্যত আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au